তিন কাউন্সিলর নিয়েই ইংরেজবাজার পুরসভা বিজেপির দখলে
মালদহ জেলা পরিষদের পর এবার ইংরেজবাজার পুরসভাও দখলে নিল বিজেপি। বুধবার চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটাভুটিতে বিজেপি প্রার্থী অম্লান ভাদুড়িকে সমর্থন করেন তৃণমূল থেকে ‘নির্দল’ হওয়া ১১…
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে একদল মানুষ জোরপূর্বক ঘেরাও করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আব্দুস সালাম (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মামলার এজাহারে নাম থাকা আসামি নন। তবে তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আব্দুস সালাম রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নগরীর প্যারামেডিকেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর আব্দুস সালামকে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রামেবির উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাজমুল হোসাইন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে আব্দুস সালামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মামলায় এজাহারে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
যেভাবে ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ
মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা জোরপূর্বক উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় তাঁকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
একপর্যায়ে আগে থেকেই লিখে রাখা একটি পদত্যাগপত্রে উপাচার্যের স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে উপাচার্যের কক্ষ থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভির যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ওই সময় পুরো ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর রামেবির উপাচার্যের পিএস নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় হামলা, জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এজাহারে নাম না থাকলেও গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা
মামলায় কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও তদন্তে আব্দুস সালামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আব্দুস সালামের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে এ ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন আর রশিদ মামুন বলেন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে একটি দল মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়েছে। এর সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়।
তিনি দাবি করেন, কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনায় জড়িত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।
মামুন আর রশিদ মামুন আরও বলেন, বিএনপি সব সময় মবের বিপক্ষে। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, এখন সেটিই দেখার
উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর ঘটনায় মামলা হওয়ার পর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি এজাহারভুক্ত না হওয়ায় তদন্তের মাধ্যমে তাঁর সংশ্লিষ্টতা কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছে, তা এখন মামলার তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একই সঙ্গে ঘটনার সময় কারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিলেন, কারা উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন, কার নির্দেশনায় পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ও কম্পিউটার সরঞ্জাম কারা নিয়ে গেছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জোরপূর্বক প্রবেশ করে একজন উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করা এবং তাঁর কার্যালয় থেকে সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাদের ভূমিকা কতটা ছিল, সেটিই সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au