ঢামেকের নারী শৌচাগার থেকে হিন্দু নার্সের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, যা জানা যাচ্ছে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলার একটি নারী শৌচাগার থেকে তন্ময়ী মণ্ডল নামে এক নার্সের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি রাজধানীর বারডেম…
মালদহ জেলা পরিষদের পর এবার ইংরেজবাজার পুরসভাও দখলে নিল বিজেপি। বুধবার চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটাভুটিতে বিজেপি প্রার্থী অম্লান ভাদুড়িকে সমর্থন করেন তৃণমূল থেকে ‘নির্দল’ হওয়া ১১ কাউন্সিলর। পাশাপাশি এক নির্দল কাউন্সিলরও বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন করেন। ফলে মাত্র তিন কাউন্সিলর নিয়ে থাকা বিজেপিই পুরসভায় বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়।
ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। গত মাসে তিনি পদত্যাগ করার পর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বুধবার নতুন বোর্ড গঠনের জন্য সভা ডাকা হয়।
সভা শুরুর আগেই তৃণমূলের ১১ কাউন্সিলর নিজেদের ‘নির্দল’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে জেলাশাসকের কাছেও লিখিতভাবে জানান তারা। ওই কাউন্সিলরদের অন্যতম শুভময় বসু বলেন, তারা দলত্যাগ করেননি, বরং নির্দল হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নির্দল হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শুভময় বলেন, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হলেও দলটির প্রতীক নির্বাচন কমিশন ‘ফ্রিজ’ করায় তারা পরিচিতির সংকটে পড়েছিলেন। একই সঙ্গে পুর পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। মানুষের জন্য কাজ করতেই নির্দল হিসেবে বাকি মেয়াদ কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান শুভময়।
বোর্ড গঠনের সভায় বিজেপি কাউন্সিলর সুতপা মুখোপাধ্যায় অম্লান ভাদুড়ির নাম চেয়ারম্যান পদে প্রস্তাব করেন। আরেক বিজেপি কাউন্সিলর কৃষ্ণা নাগ সেই প্রস্তাব সমর্থন করেন। এরপর তৃণমূল থেকে নির্দল হওয়া ১১ কাউন্সিলর এবং একজন নির্দল কাউন্সিলর অম্লানকে সমর্থন করেন।
বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূল কাউন্সিলর ভাঙানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অম্লান ভাদুড়ি। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার পর নিয়ম অনুযায়ী নতুন বোর্ড গঠন হয়েছে এবং তার নাম প্রস্তাব করা হলে ওই ১১ কাউন্সিলর তাকে সমর্থন করেছেন।
ইংরেজবাজার পুরসভায় এত দিন সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল তৃণমূলের। ২৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে বুধবার ভোটাভুটির সময় তৃণমূলের ১৪ জন কাউন্সিলর সভায় উপস্থিত ছিলেন। তবে ১১ জন কাউন্সিলর নির্দল হিসেবে বিজেপি প্রার্থীকে সমর্থন করায় এক ভোটের ব্যবধানে পুরসভার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিজেপি।
ভোটাভুটির সময় তৃণমূলের কাউন্সিলর হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন সাবেক তৃণমূল বিধায়ক ও পুরপ্রধান নীহাররঞ্জন ঘোষের স্ত্রী গায়ত্রী ঘোষও। অতীতে কৃষ্ণেন্দু ও নীহাররঞ্জনের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এলেও এদিন দুজনের পরিবারের সদস্যদের একই শিবিরে দেখা যায়।
১১ কাউন্সিলরের নির্দল হওয়ার বিষয়ে কৃষ্ণেন্দু বলেন, তারা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তার জানা নেই। এটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর এক দিন আগেই মালদহ জেলা পরিষদও বিজেপির দখলে যায়। সেখানে কংগ্রেসের উদ্যোগ ভেস্তে দিয়ে বিজেপি বোর্ড গঠন করে। জেলা পরিষদ দখলের আগে সদস্যদের অন্য রাজ্যে নিয়ে গিয়ে রিসর্টে রাখার অভিযোগ, পুলিশের অভিযান এবং শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের মতো ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
মঙ্গলবার জেলা পরিষদের সভায় বিজেপি দীপিকা বালার নাম সভাধিপতি পদে প্রস্তাব করে। সভায় উপস্থিত ৩০ সদস্যের মধ্যে তৃণমূলের একাংশ বিজেপিকে সমর্থন করলে কংগ্রেস সভা বয়কট করে। চার সদস্য নিয়ে থাকা বিজেপি শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের একাংশের সমর্থনে মালদহ জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
সূত্র:আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au