খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ৪০ মিনিট পর কার্যালয়ে ফিরলেন
খুলনা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে থেকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০…
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলার একটি নারী শৌচাগার থেকে তন্ময়ী মণ্ডল নামে এক নার্সের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে প্রেমিক আকাশ মিত্রের মরদেহ দেখতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢামেক হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলার একটি নারী শৌচাগার থেকে তন্ময়ী মণ্ডলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে বারডেম জেনারেল হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে ঘটনাটিকে এখনো চূড়ান্তভাবে আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ, ঘটনাস্থলের আশপাশে রক্তের দাগ এবং একটি ছুরি পাওয়ার কথা জানা গেছে। এসব আলামত এখন তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার আগে ও পরে তন্ময়ীর গতিবিধি জানতে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। ময়নাতদন্তের ফল এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পরই এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
প্রেমিকের মরদেহ দেখতে ঢামেক মর্গে গিয়েছিলেন তন্ময়ী
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তন্ময়ী মণ্ডলের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আকাশ মিত্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে। ওইদিন কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে আকাশ মিত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।
আকাশ মিত্রের ময়নাতদন্তের সময় তন্ময়ী মণ্ডল ঢামেকের মর্গে উপস্থিত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। সেখানে প্রেমিকের মরদেহ দেখার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তাঁদের ভাষ্য।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, আকাশের মরদেহ দেখার পর তন্ময়ী হাসপাতালের ভেতরেই কোনো এক সময় নিজেকে আহত করেন। পরে তিনি ঢামেক হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলার একটি নারী শৌচাগারে যান। সেখান থেকেই পরে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তবে তন্ময়ীর কীভাবে এবং কী পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তন্ময়ী মণ্ডল এবং তাঁর প্রেমিক আকাশ মিত্রের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, আকাশ মিত্রের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে করা হয়। ওই সময় তন্ময়ী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রেমিকের মরদেহ দেখার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ডিসি শেখ জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে এমন একটি চিত্র পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তদন্তে গুরুত্ব আলামতে
তন্ময়ী মণ্ডলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক ধারণায় আত্মহত্যার সম্ভাবনা সামনে এলেও ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামতকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
বিশেষ করে শৌচাগারের আশপাশে রক্তের দাগ এবং একটি ছুরি পাওয়ার বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তন্ময়ীর শরীরে কী ধরনের আঘাত ছিল, আঘাতের ধরন এবং রক্তক্ষরণের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামতের মিল রয়েছে কি না, সেসব বিষয় ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় উঠে আসতে পারে।
এ ছাড়া তন্ময়ী কখন মর্গ থেকে বের হন, এরপর কোথায় যান, কারও সঙ্গে তাঁর কথা বা যোগাযোগ হয়েছিল কি না, কখন পুরোনো ভবনের ওই শৌচাগারে প্রবেশ করেন এবং সেখানে কতক্ষণ ছিলেন, এসব তথ্য জানতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো মৃত্যুকে প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। বিশেষ করে ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ, ছুরি এবং অন্যান্য আলামত থাকায় এগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
একসঙ্গে দুই মৃত্যুর ঘটনায় বাড়ছে প্রশ্ন
আকাশ মিত্রের মৃত্যুর পর অল্প সময়ের ব্যবধানে তন্ময়ী মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আকাশের মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে তন্ময়ীর মৃত্যুর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তন্ময়ী মর্গে যাওয়ার আগে বা পরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তন্ময়ীর পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত চান। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে শুধু প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা না করে সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
পুলিশও জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তন্ময়ীর শরীরে আঘাতের ধরন ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং দুই পরিবারের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পুরো ঘটনার একটি ধারাবাহিক চিত্র তৈরির চেষ্টা চলছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তন্ময়ী মণ্ডলের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ফলে ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সিসিটিভি বিশ্লেষণের ফলই এখন ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au