ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের পক্ষে লড়াই করায় গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জেতেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর)। বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় নরওয়ের নোবেল কমিটি বিজয়ীর নাম প্রকাশ করবে। গত বছর ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার পক্ষে লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন দেশটির বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। এবার মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার কার হাতে উঠছে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
শান্তির নোবেল কার হাতে?
নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন, সংঘাত নিরসন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন উদ্যোগের বিষয়গুলো কমিটির বিবেচনায় থাকতে পারে।
নোবেল কমিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ঘটে চলা বিভিন্ন পরিবর্তনের দিকে তাঁরা গভীরভাবে নজর রাখছেন।
নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হার্পভিকেন বলেন, পরিবর্তনশীল এই সময়ে যারা নতুন প্রতিষ্ঠান, উদ্যোগ ও কাজের নতুন পথ তৈরি করতে পারছেন, তাঁদের কাজ আলফ্রেড নোবেলের উইলে নির্ধারিত মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।
তিনি বলেন, নোবেলের উইলে নির্ধারিত উদ্দেশ্যই কমিটির কাজের মূল মাপকাঠি। ফলে এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই কমিটির বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও নানা সংকটের কারণে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের প্রাসঙ্গিকতা কমে যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হার্পভিকেন বলেন, বিশ্বে চলমান অস্থিরতার অর্থ এই নয় যে উপযুক্ত প্রার্থীর অভাব রয়েছে কিংবা পুরস্কারটির গুরুত্ব কমে গেছে।
তিনি বলেন, ‘পুরস্কার নিয়ে আমি চিন্তিত নই। তবে বিশ্ব কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমি চিন্তিত।’
কীসের ভিত্তিতে দেওয়া হয় শান্তিতে নোবেল?
সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইল অনুযায়ী শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বাড়ানো, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত বা হ্রাস করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়।
বিশ্বের নানা সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এ বছর শান্তিতে নোবেল কার হাতে উঠবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা পুরস্কার ঘোষণার।
সূত্র : রয়টার্স