শ্রীপুরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের এক পরিবেশককে গুলি করে প্রায় তিন কোটি টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের এক পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের নগদ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত গাড়ির গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রতিষ্ঠানের এক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহত হন। আহত হয়েছেন গাড়িচালক ও এক এরিয়া ম্যানেজারও।
পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের দাবি, লুট হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে মোট চার কোটি টাকা ছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শ্রীপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে ঠিক কত টাকা লুট হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিমেল, গাড়িচালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদ। গুলিবিদ্ধ হিমেলকে প্রথমে শ্রীপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে এসে হামলা
ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের শ্রীপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটি শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বিকাশের কার্যক্রম পরিচালনা করে। শুক্রবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় এবং পোশাকশ্রমিকদের বেতন পরিশোধের চাপ থাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে নগদ টাকার সংকট দেখা দেয়।
তিনি বলেন, বিকাশের নিয়ম অনুযায়ী নরসিংদী সদরের পরিবেশক হযরত আলী মুন্সীর কাছ থেকে বিকাশের ব্যালেন্সের বিপরীতে নগদ টাকা আনা হচ্ছিল। এ জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে টাকা পরিবহন করা হয়। গাড়িটিতে নগদ টাকা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ছিল।
মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছালে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গাড়িটির গতিরোধ করে।
এরপর হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলে। একপর্যায়ে তারা পিস্তল বের করে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিমেলকে গুলি করে। পরে গাড়িতে থাকা টাকার বস্তাগুলো নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হঠাৎ এমন হামলায় গাড়িতে থাকা কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রকাশ্য সড়কে অস্ত্রের মুখে গাড়ির গতিরোধ করে গুলি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা লুটের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গাড়িতে চার কোটি টাকা ছিল, দাবি প্রতিষ্ঠানের
পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের শ্রীপুর শাখার ব্যবস্থাপক জানান, গাড়িতে মোট চার কোটি টাকা ছিল। তবে লুটের পর প্রাথমিকভাবে প্রায় তিন কোটি টাকা খোয়া গেছে বলে তাঁদের ধারণা।
টাকার পরিমাণ নিয়ে এই পার্থক্যের কারণে গাড়িতে কত টাকা ছিল, কত টাকা লুট হয়েছে এবং কোনো টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নগদ টাকা পরিবহনের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন ছিল, হামলাকারীরা আগে থেকেই গাড়িটির গতিবিধি সম্পর্কে জানত কি না এবং পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এ ঘটনায় হামলাকারীদের পরিচয়, ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর কিংবা তারা কোন পথে পালিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আহত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। লুট হওয়া অর্থের সঠিক পরিমাণও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রকাশ্য সড়কে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা, লুট হওয়া টাকা উদ্ধার এবং হামলার পেছনে কারা জড়িত তা বের করা এখন পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নগদ অর্থ পরিবহনের তথ্য হামলাকারীরা কীভাবে পেল, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে।