চাঁদা না পেয়ে লুটপাট, দখল-চাঁদাবাজি থামাতে ব্যর্থ কেন সরকার?
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, হামলা ও ভাঙচুরের একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আবাসিক ভবন নির্মাণেও চাঁদা…
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ক্যাটি জাকারিয়া। ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন তিনি। রাজনৈতিক আনুগত্য, যোগাযোগ দক্ষতা এবং ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের কারণে এবার হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পাচ্ছেন জাকারিয়া।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ক্যাটি জাকারিয়াকে নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় জাকারিয়ার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তাঁকে শুরু থেকেই নিজের বিশ্বস্ত ও মেধাবী সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, জাকারিয়ার সমর্থনের ইতিহাসে কোনো দাগ নেই। তিনি ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক। নতুন দায়িত্বে জাকারিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কিন্তু কে এই ক্যাটি জাকারিয়া, যাঁকে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প?
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ক্যাটি জাকারিয়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন মালিবুতে অবস্থিত পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে তিনি স্নাতক ও আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পেশাগত যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে প্রকাশিত তাঁর ব্যক্তিগত পরিচিতিতে এসব তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে জাকারিয়া মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে নির্বাচনি প্রচার এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে মুখপাত্র হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন জাকারিয়া। এরপর তিনি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তা ও যোগাযোগসংক্রান্ত কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি।
জাকারিয়াকে হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি করার প্রস্তাবের খবর প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। পরে ট্রাম্প নিজেই তাঁর নিয়োগের ঘোষণা দেন।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি জাকারিয়ার সমর্থন শুধু পেশাগত কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকাশ্য বক্তব্য ও লেখালেখিতেও তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে জাকারিয়া তাঁর ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি জানান, একদিন শরীরচর্চার সময় ট্রাম্পের সমর্থনে লেখা একটি টুপি পরে জিমে গেলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তাঁকে সেটি খুলে ফেলার অনুরোধ জানান।
ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জাকারিয়া লেখেন, বামপন্থীদের সন্তুষ্ট করার জন্য তিনি কখনোই ট্রাম্পের সমর্থনে পরা টুপি খুলবেন না। তাঁর মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজায় প্রবেশ করলেই একজন মানুষের বাক্স্বাধীনতার অধিকার শেষ হয়ে যায় না।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর প্রতি নিজের দৃঢ় সমর্থনের কথা প্রকাশ করেন জাকারিয়া।
এদিকে গত আগস্টের শেষ দিকে ক্যারোলিন লেভিট দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদটি শূন্য ছিল। প্রায় দেড় মাস পর সেই গুরুত্বপূর্ণ পদে ক্যাটি জাকারিয়াকে বেছে নিলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে জাকারিয়ার প্রধান দায়িত্ব হবে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নীতি এবং কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করা। পাশাপাশি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরাও তাঁর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে পরিচিত জাকারিয়া নতুন দায়িত্বে প্রশাসনের অবস্থান কীভাবে গণমাধ্যম ও মার্কিন জনগণের সামনে তুলে ধরেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au