এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি, প্রয়োজনে হরতালে যাওয়ার ঘোষণা জোটের
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর…
জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় দলের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। সংস্থাটির ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল জানিয়েছে, জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশনের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯ অক্টোবর রোনালদোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে তাঁর ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
পরদিন ১০ অক্টোবর বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলেও জানিয়েছে ফেডারেশন। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে রোনালদোর বিরুদ্ধে পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
ঘটনার সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন রোনালদো। সে সময় দলের প্রধান কোচ জর্জ জেসুস তাঁকে জানান, ডেনমার্কের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচে শুরুর একাদশে রাখা হবে না।
এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও পুরো সময় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল পর্তুগিজ অধিনায়ককে। পরপর দুই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কোচের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে কোচের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। তাঁর এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে পর্তুগিজ ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় দলের একজন অভিজ্ঞ ফুটবলার ও অধিনায়ক হিসেবে তাঁর এই আচরণ শৃঙ্খলাবিধির আওতায় পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোনো ফুটবলার যথাযথ কারণ ছাড়া অনুশীলন, ম্যাচ কিংবা দলের নির্ধারিত কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এই বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারকে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে।
তবে রোনালদোর ক্ষেত্রে এখনো চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। আপাতত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে জাতীয় দলকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেও ক্লাব ফুটবলে গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন রোনালদো। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে সম্প্রতি ক্যারিয়ারের ৯৮০তম গোল করেছেন তিনি। ঐতিহাসিক এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ২০ গোল।
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা রোনালদোর ভবিষ্যৎ এখন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au