এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি, প্রয়োজনে হরতালে যাওয়ার ঘোষণা জোটের
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর…
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের চেষ্টা এবং কথা বলার কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্লাস নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা। রবিবার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানান তিনি।
তার এ প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শ্রেণিকক্ষে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক আস্থার বিষয়টি সামনে এসেছে। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এ প্রতিবাদের কথা জানান।
তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা নস্যাৎ করার পরিকল্পিত চক্রান্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের মধ্যে থাকা আস্থা নষ্ট করছে। ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা কথা বলার কারণে যেসব শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি এ প্রতিবাদ করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি নির্ধারণ করেছেন তিনি। অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে কী করা যাবে বা যাবে না এবং মতবিরোধ দেখা দিলে তা কীভাবে নিরসন করা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা করেছেন।
প্রতিবাদের বার্তা
অধ্যাপক সামিনা লুৎফার এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে ঘিরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্ক। গত ৭ অক্টোবর একটি ক্লাসে নেকাব পরা এক ছাত্রীর সঙ্গে তার কথোপকথনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর জরুরি সভা করে ওই শিক্ষককে সব ধরনের পাঠদান কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয় বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তাসনিম সিরাজ মাহবুব। তার দাবি, তিনি কোনো শিক্ষার্থীকে নেকাব খুলতে, পোশাক পরিবর্তন করতে কিংবা ক্লাস ছেড়ে যেতে বলেননি। মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ ঢাকা থাকায় শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ স্থাপনে অসুবিধার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
তার বক্তব্য, একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা পাঠদানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাসনিম সিরাজ আরও দাবি করেন, তিনি কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাককে অবমাননা করেননি। ওই ঘটনার পর তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই পাঠদান থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের প্রতিবাদ
এদিকে, অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষের আলোচনা রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ তুলে শিক্ষকের পক্ষে প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au