এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি, প্রয়োজনে হরতালে যাওয়ার ঘোষণা জোটের
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর…
গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান (৭০) মারা গেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কথিত আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকা এই রাজনীতিবিদ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বাদ জোহর গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে মাহবুব আলী খানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন থানাপাড়া মসজিদের ইমাম শিবলী আহমেদ। পরে জেলা শহরের গেটপাড়ার পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রুহুল আমিন শেখ, সহসভাপতি মুন্সি আতিয়ার রহমান, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুলকদর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হক এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর আল-আমিন ইসলামসহ অনেকে।
মাহবুব আলী খানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু পাকিস্তান আমলে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। পরে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
টুঙ্গিপাড়ায় শপথের স্মৃতি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। এর দুদিন পর ৭ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের বেদিতে দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শপথ পাঠ করেন মাহবুব আলী খান। সেই শপথে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারের কথা উঠে আসে।
সেদিনের শপথবাক্যে তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। পাশাপাশি শেখ হাসিনার ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও শপথে উল্লেখ করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দেওয়া তার সেই বক্তব্য আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের একটি আলোচিত স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য ও দলের প্রতি অঙ্গীকার মাহবুব আলী খানের রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
রাজনীতিতে রেখে গেলেন দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি
মাহবুব আলী খানের মৃত্যুতে পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীরা শোকাহত। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পর্যন্ত তার দীর্ঘ পথচলা স্থানীয় রাজনীতিতে তাকে পরিচিত মুখে পরিণত করেছিল।
দলীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক সংকটের সময় দেওয়া বক্তব্যের কারণে তিনি গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার যে শপথ তিনি পাঠ করেছিলেন, সেটিও তার রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত ঘটনা হিসেবে থেকে যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au