ভারতের কেরালায় দ্রুতগতির একটি বিলাসবহুল গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত গাড়িচালকের আচরণ ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্ত তরুণ বলেন, তাঁর বাবা সবকিছু সামলে নেবেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কেরালার এর্নাকুলাম জেলার নেডুমবাসেরি এলাকায় কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গভীর রাতে চা খেয়ে স্কুটারে করে ফেরার সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি মিনি কুপার গাড়ি তাঁদের ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতরা হলেন কর্ণাটকের ২১ বছর বয়সী ইয়াস, কেরালার ওয়ানাড়ের ২১ বছর বয়সী দেবিকা এবং পালাক্কাডের ২২ বছর বয়সী গোপিকা। তাঁরা তিনজনই ত্রিক্কাক্কারা এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে তিন সহকর্মী একসঙ্গে চা খেতে বেরিয়েছিলেন। চা খাওয়া শেষে কর্মস্থলের এলাকায় ফেরার সময় তাঁদের বহনকারী স্কুটারটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় দ্রুতগতির গাড়িটি।
সংঘর্ষের তীব্রতায় স্কুটারে থাকা তিনজনই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁদের কাউকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় মিনি কুপার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ১৯ বছর বয়সী সুহাইল সাজীব। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সুহাইল সাজীবের আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তিনজন মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার পরও অভিযুক্ত তরুণের কথাবার্তায় অনুশোচনার পরিবর্তে ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সেলিম জানান, দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে তিনি অন্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে একটি মিনি কুপার গাড়ির পাশে স্কুটারের তিন আরোহীকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন।
এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়িটি থামিয়ে চালকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। সেলিমের দাবি, ওই সময় অভিযুক্ত সুহাইল সাজীব বলেন, ‘আমার বাবা সব সামলে নেবেন।’
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত তরুণকে রাস্তা গাড়ি চালানোর জন্যই তৈরি হয়েছে, এমন মন্তব্য করতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর অভিযুক্তের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তিন তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর কথিত প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুহাইল সাজীবের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই ধারায় খুনের পর্যায়ে না পড়া অপরাধমূলক নরহত্যার অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ প্রথমে অভিযুক্ত তরুণ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন কি না, তা যাচাই শুরু করে। পরবর্তী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, গাড়ির গতি এবং ঘটনার অন্যান্য পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে দুর্ঘটনায় জড়িত মিনি কুপার গাড়িটিও জব্দ করেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আহতদের হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত তিন তরুণের মৃত্যু হয়।
একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তিন সহকর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ।