এবার বিচারকের বাসভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, কী বার্তা?
মাদারীপুর শহরের জেলা ও দায়রা জজের বাসভবনের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে শহরের শকুনি লেকপাড় এলাকায় এ ঘটনা…
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার সময় বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুনরায় কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের জেদ্দার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশটির দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর।
সোমবার গভীর রাতে হুথি গোষ্ঠী দাবি করে, তারা রিয়াদের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণ আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
এ ছাড়া হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার জারি করা বিমান চলাচলসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় ১৭ অক্টোবর রাত ৯টা পর্যন্ত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শনিবারের হামলার পর থেকেই বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন রোববার আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং প্রায় এক ডজন মানুষ আহত হন।
ধারাবাহিক এসব হামলার কারণে সৌদি আরবের আকাশপথে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাত এবং উড়োজাহাজের জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা বিমান পরিবহন খাতের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিমান নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শক সংগঠন অপসগ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জি বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর এসব হামলাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিমান চলাচলের ঝুঁকি নতুন করে মূল্যায়ন করা এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
বিমান চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার উড়োজাহাজগুলো রিয়াদের আকাশপথ এড়িয়ে চলেছে। তবে কিছু উড়োজাহাজ সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করে দেশটির পশ্চিম উপকূলের প্রধান বিমান পরিবহনকেন্দ্র জেদ্দায় অবতরণ করেছে।
বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au