ইউনূসের শাসনামলে মব সন্ত্রাস সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল: তসলিমা নাসরিন
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে মব সন্ত্রাস একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তার দাবি, এ…
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: কোথাও জমি ও সম্পত্তিকে ঘিরে বিরোধ কিংবা হামলা, কোথাও নিখোঁজ, অপহরণ ও শারীরিক আক্রমণ; আবার কোথাও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যু। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনার এমন চিত্র তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ—এইচআরসিবিএমের জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ হালনাগাদ।
সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্যচিত্র অনুযায়ী, এই তিন মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মোট ৪৯৮টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। জুলাইয়ে ১৬৮টি, আগস্টে ১৮০টি এবং সেপ্টেম্বরে ১৫০টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে আগস্টে সবচেয়ে বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। সেপ্টেম্বরে সংখ্যা কমলেও শুধু এই পরিবর্তন থেকে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
এইচআরসিবিএমের শ্রেণিভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রয়েছে জমি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত ঘটনা—১৫০টি। এর পরেই নিখোঁজ, অপহরণ ও হামলার সম্মিলিত শ্রেণিতে উল্লেখ করা হয়েছে ১৪৯টি ঘটনা।
জমি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত ঘটনায় মাসভিত্তিক পার্থক্যও লক্ষণীয়। জুলাইয়ে এই শ্রেণিতে ৪৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হলেও আগস্টে তা বেড়ে হয় ৬৯টি; সেপ্টেম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে ৩৬টি। অন্যদিকে নিখোঁজ, অপহরণ ও হামলার সম্মিলিত শ্রেণিতে তিন মাসের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৯, ৫০ ও ৪৯।
বসতভিটা, সম্পত্তি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত এসব ঘটনা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, তা বুঝতে প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি: এইচআরসিবিএমের পর্যবেক্ষণে উদ্বেগ।
প্রতিবেদনে হত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যুর সম্মিলিত শ্রেণিতে ৯৭টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাইয়ে ৪০টি, আগস্টে ২৭টি এবং সেপ্টেম্বরে ৩০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এইচআরসিবিএম সংখ্যাটিকে উদ্বেগজনক বলে তুলে ধরেছে।
তিন মাসে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ৭৭টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে—জুলাইয়ে ২৫টি, আগস্টে ২২টি এবং সেপ্টেম্বরে ৩০টি। এই শ্রেণিতে সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
যৌন সহিংসতার ঘটনায় ত্রৈমাসিক সংখ্যা দেওয়া হয়েছে ১৮টি। এইচআরসিবিএমের পর্যবেক্ষণ হলো, সামাজিক কলঙ্ক, ভয় এবং সামাজিক বিধিনিষেধের কারণে সংখ্যালঘু পরিবারের অনেকে অভিযোগ জানাতে অনীহা বোধ করেন। ফলে নথিভুক্ত সংখ্যা প্রকৃত পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত না-ও করতে পারে।
এ ছাড়া ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত শ্রেণিতে আটটি ঘটনা উল্লেখ রয়েছে।
এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, নির্ভয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে। তাঁদের মতে, প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা এবং তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ—এইচআরসিবিএমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট লাকি বাছার। ছবি: ওটিএন বাংলা
মানবাধিকার সংস্থাটির বাংলাদেশ সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট লাকি বাছাড় ওটিএন বাংলাকে বলেন, “অন্যায় সহ্য করতে করতে নীরবতা যেন আমাদের নিয়তি হয়ে না দাঁড়ায়। মনে রাখবেন, আপনারা একা নন। আপনাদের প্রতিটি অশ্রু ও বেদনা আমাদেরও স্পর্শ করে; আপনাদের অধিকার রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। আসুন, ঐক্য, সাহস ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের শক্তিতে ভয়কে অতিক্রম করি এবং নিজেদের মর্যাদা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে এগিয়ে আসি।”
সূত্র: এইচআরসিবিএমের “Bangladesh Minority Rights | July–September 2026” ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ তথ্যচিত্র।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au