ঝাড়ফুঁকের আড়ালে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, মাদরাসার হুজুর গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় অসুস্থ কিশোরীকে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হোসাইন আহম্মেদ (৫৫) নামে এক মাদরাসার হুজুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায়…
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বের হতে পারেননি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা।
এতে উপাচার্যের পাশাপাশি চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, তাঁর সহযোগী এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১০ থেকে ১১ জন অবস্থান করছিলেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর তাঁরা রাতভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
এদিকে সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে সিস্টোলিক ১৭০ ও ডায়াস্টোলিক ১০০ মিলিমিটার পারদ পান। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।
নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সুস্থ আছেন। তবে ভবনের ভেতরে থাকা দুজন সাবেক শিক্ষার্থী উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় অন্যরাও অসুস্থতা ও ক্লান্তি অনুভব করছেন বলে জানান তিনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাঁকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। আন্দোলনের কারণে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এর মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা আরও জটিল হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ পরিস্থিতিতে আটকে থাকা ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au