বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, এ দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার ও নিরাপত্তা প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের নাগরিক হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে আপনাদের কিছু অধিকার রয়েছে। সরকারপ্রধান হিসেবে সেই অধিকারগুলো নিশ্চিত করার চেষ্টা করা আমার দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, তিনি নিজের পদকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখেন। নাগরিকদের ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাঁদের অধিকার রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আশ্বাস
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ও তাঁদের উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের স্থাপনায় হামলার অতীত ঘটনাগুলোও এ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থানের আশ্বাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উপাসনালয়ের নিরাপত্তা, সহিংসতার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ।
দুর্গাপূজা ঘিরে দেশজুড়ে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। আগামী ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সার্বক্ষণিক নজরদারি, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের দায়িত্ব পালন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থা। বিশেষ করে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি, জনসমাগম, যাতায়াত এবং বিসর্জনকেন্দ্রিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়কে অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।
দুর্গাপূজার আগে সরকারের এ আশ্বাসের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা, উপাসনালয়ের সুরক্ষা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য বা সহিংসতার অভিযোগের যথাযথ প্রতিকারের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উৎসব চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার অন্যতম শর্ত।