ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এ প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে নিজেকে শেখ হাসিনার মেয়ে হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি কঠিন সময়েও টিকে থাকার শিক্ষা মায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। নিবন্ধে তিনি নিজের পেশাগত পরিচয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর অভিজ্ঞতা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লিউএইচও) দায়িত্ব পালনকালে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সংস্থাটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
নিবন্ধে সায়মা ওয়াজেদ বলেছেন, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর পেশাগত কাজের চেয়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে তাঁর নাম ও পারিবারিক পরিচয় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। নিজের ভাষায় পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে তিনি নিজেকে জনস্বাস্থ্য পেশাজীবী, মনোবিজ্ঞানী এবং অটিজম, মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারের প্রবক্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, শেখ হাসিনার মেয়ে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি হতে পেরে তিনি গর্বিত। তবে রাজনীতি থেকে দূরে থেকে পেশাগত জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত কাজের বিবরণ
নিবন্ধে সায়মা ওয়াজেদ জানিয়েছেন, তিনি একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্কুল মনোবিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষায়িত শিক্ষা নেতৃত্ব বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য ছয় বছর ধরে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
২০০৯ সাল থেকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজকে নিজের পেশাগত জীবনের কেন্দ্রে রেখেছেন বলে দাবি করেন সায়মা। তাঁর ভাষ্য, জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নীতি, কর্মসূচি এবং কৌশল পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষ এবং নিউরোডাইভারজেন্ট জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়াকে নিজের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। বাংলাদেশে এ ধরনের কাজ করেছেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একই ধরনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশা করেছিলেন বলেও নিবন্ধে লিখেছেন।
১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড ও পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা
নিজের মানসিক দৃঢ়তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সায়মা ওয়াজেদ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।
নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের বহু সদস্য নিহত হন। সে সময় তিনি ও তাঁর ভাই বেঁচে যান, কারণ তাঁদের মা শেখ হাসিনা এবং খালা শেখ রেহানা তাঁদের বাবার সঙ্গে দেখা করতে জার্মানিতে গিয়েছিলেন। তাঁর বাবা তখন জার্মানিতে কর্মরত ছিলেন বলে নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সায়মার ভাষ্য অনুযায়ী, শৈশবেই পরিবারের সদস্যদের হারানোর অভিজ্ঞতা এবং নিজের জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এ কারণেই মানসিক স্বাস্থ্য, বাস্তুচ্যুতি ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার মতো বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় তিনি শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের ওপর নির্ভর করেন না, বরং নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নেন।
তিনি লিখেছেন, প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া এবং কাছের মানুষদের সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দেখা থেকেই সহনশীলতা তৈরি হয়। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকার শিক্ষা তিনি নিজের পরিবার থেকেই পেয়েছেন।
শেখ হাসিনার সাহস ও দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ
নিবন্ধে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। তাঁর জীবনের ওপর ২১টি হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন সায়মা। এর মধ্যে একটি ঘটনার সময় তিনি ছোট ছিলেন এবং মায়ের পাশে উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন।
সায়মার ভাষ্য, শেখ হাসিনা তাঁকে ভয় থাকা সত্ত্বেও সাহসী হতে, কঠিন পরিস্থিতিতে আশা ধরে রাখতে এবং নিষ্ঠুরতার জবাব কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দিতে শিখিয়েছেন। তাঁর কাছে শেখ হাসিনা অনুপ্রেরণার উৎস এবং গত এক বছর ধরে আশার জায়গা হয়ে রয়েছেন।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে সায়মা ওয়াজেদ নিবন্ধে অভিযোগ করেছেন, দেশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্বিচার হামলা হচ্ছে, ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে, দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিপীড়নের শিকার হচ্ছে এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
১৯৮১ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করে সায়মা লিখেছেন, সে সময়ও স্বাধীনতাসংগ্রামের গান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা বিক্রির কারণে একটি প্রকাশনা সংস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর স্মরণে রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে নিবন্ধে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যেসব রাজনৈতিক অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সায়মা ওয়াজেদের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। সেসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য নিবন্ধের সরবরাহ করা অংশে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হয়নি।
ডব্লিউএইচওতে দায়িত্ব পালন ও ছুটিতে পাঠানোর অভিযোগ
নিবন্ধের বড় একটি অংশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় দায়িত্ব পালনকালে নিজের অভিজ্ঞতা এবং সংস্থাটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেছেন সায়মা ওয়াজেদ।
তিনি লিখেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর পারিবারিক পরিচয়ই তাঁর প্রধান পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করে। তাঁর দাবি, বহু বছরের পেশাগত কাজ উপেক্ষা করা হয় এবং তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়।
সায়মার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাঁকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায়। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর আইনগত ভিত্তি ছিল না এবং তাঁকে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, সেখানে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
নিবন্ধে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সায়মার অভিযোগ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও মহাপরিচালক তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি চিঠির ভিত্তিতে ২০২৫ সালের জুনে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় আইনি নোটিশ না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যথাযথভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগও তিনি পাননি।
সায়মা ওয়াজেদ নিবন্ধে এসব পদক্ষেপকে তাঁর মানবাধিকার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত, তদন্তের ফলাফল এবং সায়মার অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটির বক্তব্য নিবন্ধের সরবরাহ করা অংশে নেই। ফলে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংস্থাটির অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতে স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
ভ্রমণসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদন্তের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ। তাঁর অভিযোগ, চীনে একটি সফরের জন্য ৯০১ মার্কিন ডলার ব্যয়ের দাবি করাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি ওই সফরে যাননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
সায়মার বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগ ও তদন্ত তাঁকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে অর্জিত পদে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি ও চরিত্রহননের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তাঁর দাবি, নিজের নাম কলঙ্কমুক্ত করার আশায় তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু জবাবদিহি, স্বাধীন তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
সায়মা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ মাস বিনা বেতনে ছুটিতে থাকার পর তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা তাঁর প্রায় ২০ বছরের পেশাগত জীবনের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।
সূচনা ফাউন্ডেশন নিয়ে অভিযোগ ও বক্তব্য
নিবন্ধে নিজের প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা সূচনা ফাউন্ডেশন নিয়েও বিস্তারিত লিখেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁর সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ তুলেছিল। এমনকি ফাউন্ডেশনটির অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সায়মার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) পরামর্শমূলক মর্যাদা পেয়েছিল। সংস্থাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ অনুষ্ঠান আয়োজন, কৌশলগত নথি প্রণয়ন এবং গবেষণাবিষয়ক পরামর্শ দেওয়ার কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়ক জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএনএসক্যাপ) একটি কর্মগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবেও ফাউন্ডেশনটি কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন সায়মা।
তিনি আরও লিখেছেন, ফাউন্ডেশনটির কাজের জন্য অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব অর্থ দিয়ে সরকারি শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু অপতথ্য, গুজব ও হয়রানির কারণে ফাউন্ডেশনটি বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সায়মার মতে, এর ফলে যেসব জনগোষ্ঠী ফাউন্ডেশনটির সেবা পেত, তারা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কারণ এবং এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য নিবন্ধের সরবরাহ করা অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
নিজের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তাঁর বক্তব্য, এ অনুচ্ছেদে অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হওয়া, নিজের বক্তব্য উপস্থাপন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁকে এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের কাছে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এসব নথি কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেগুলো তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সায়মা।
আন্তর্জাতিক সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক বা শাস্তিমূলক কার্যক্রমে উচ্চমানের ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড বজায় রাখা হয়নি।
সায়মা নিজেকে একজন বিজ্ঞানী ও পেশাজীবী হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তিনি তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করতে বিশ্বাস করেন। তাঁর দাবি, নিজের পক্ষে প্রমাণ সরবরাহ করার পরও তাঁকে রাজনৈতিক বিরোধ ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
ভবিষ্যতেও জনস্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজের প্রত্যয়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব স্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তাঁর মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনস্বাস্থ্য খাতে সংস্থাটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
নিবন্ধের শেষাংশে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছেড়ে এলেও নিউরোডাইভারজেন্ট জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন পূরণে কাজ চালিয়ে যেতে চান। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যকে কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যেও কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের লেখা নিবন্ধটি মূলত তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পারিবারিক উত্তরাধিকার, পেশাগত পরিচয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে তাঁর বিরোধের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছে। নিবন্ধে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ডব্লিউএইচওর নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করা হলেও সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক নথি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।
লেখক: দ্য ওয়ালে প্রকাশিত নিবন্ধের লেখক সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক। তিনি বাংলাদেশের স্নায়ুবিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সাবেক সভাপতিও। নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত তাঁর ব্যক্তিগত।