প্রিন্স অব ওয়েলস হাসপাতালে কথিত পেট্রল হামলায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন র্যান্ডোভান বানিচ। ছবি: নাইন নিউজ (9News)।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির অন্যতম বড় ও ব্যস্ত হাসপাতাল প্রিন্স অব ওয়েলস হাসপাতালে সহরোগীদের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৪৮ বছর বয়সী এক রোগীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৫৪ বছর বয়সী এক রোগী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে সিডনির পূর্বাঞ্চলীয় র্যান্ডউইক এলাকায় অবস্থিত হাসপাতালটির স্পাইনাল ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নাইন নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পানীয়ের বোতলে পেট্রল ভরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি তিনজনের শরীরে পেট্রল ঢেলে দেন। তবে প্রথম দুই রোগীর ক্ষেত্রে তাঁর লাইটার কাজ করেনি বলে অভিযোগ। তৃতীয় রোগী ৫৪ বছর বয়সী র্যান্ডোভান বানিচের কাছে গিয়ে তিনি আগুন ধরিয়ে দিতে সক্ষম হন।
নাইন নিউজকে বানিচ বলেন, “সে আমার দিকে এগিয়ে আসছিল। এরপর হঠাৎ আমার গায়ে পেট্রল ঢেলে দেয়। আমি পেট্রলের গন্ধ পেয়েছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সে আমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।”
আগুনে বানিচের চুল ও ভ্রু পুড়ে যায়। ধোঁয়ায় তাঁর চোখও আক্রান্ত হয়। ঘটনার আগে তিনি হাসপাতালের স্পাইনাল ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হামলার পর দগ্ধ হওয়ার কারণে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নিতে হয়।
নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বানিচ বলেন, “আমার চুলজুড়ে শুধু পেট্রলের গন্ধ পাচ্ছিলাম। চুল ও ভ্রু পুড়ে গেছে। ধোঁয়া আমার চোখে ঢুকেছে। তাঁরা আমাকে পানি দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।”

প্রিন্স অব ওয়েলস হাসপাতাল সিডনির অন্যতম বৃহৎ হাসপাতাল। ছবি: পিটার রে।
হাসপাতাল সূত্রে নাইন নিউজ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই সমস্যাসৃষ্টিকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ হামলা হাসপাতালের রোগী ও কর্মীদের জন্য অত্যন্ত মানসিকভাবে বিপর্যয়কর ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার দুটি অভিযোগ, সাধারণ হামলার একটি অভিযোগ এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতিসাধনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রায়ান পার্ক। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত জঘন্য ও মর্মান্তিক আচরণ। কেউ মাদক, অ্যালকোহল কিংবা অন্য কোনো কিছুর প্রভাবে থাকুক না কেন, বিষয়টি পুলিশের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। আমি আশা করি, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পূর্ণ মাত্রায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজ্যটির বিরোধী দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক মুখপাত্র সারাহ মিচেলও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, সিডনির একটি সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা তাঁকে হতবাক ও আতঙ্কিত করেছে। পৃথক এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। এ সময় তিনি হামলায় আহত ব্যক্তিদের, তাঁদের পরিবার, হাসপাতালের কর্মী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী পার্ক ইতোমধ্যে ঘটনার বিষয়ে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তবে তাঁদের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সরকার তা বিবেচনা করবে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির জন্য তাঁকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
সূত্র: নিউজ.কম.এইউ