পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিামাঞ্চলীয় রাজ্য খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুল ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থী ও এক জন নারী শিক্ষক নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিক্ষার্থী ও এক নারী শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। নিহত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের বয়স ১৩ বছরের কম।
বৃহস্পতিবার সকালে পেশোয়ারের দির কলোনি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় স্কুলটিতে নিয়মিত পাঠদান চলছিল। ছাদ ধসে পড়ার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনেকে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পেশোয়ারের জেলা প্রশাসক আফাক ওয়াজির জানান, ছাদ ধসে পড়ায় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
এদিকে, পেশোয়ারের ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ কর্মকর্তা মিয়াঁ সাঈদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় স্কুল ভবনের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তের নির্দেশ, শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
দুর্ঘটনার পর ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রতিবেদন চেয়েছে প্রাদেশিক সরকার। খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক শিক্ষা সচিব ইনায়েতউল্লাহ ওয়াসিম প্রদেশের বেসরকারি স্কুল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শুক্রবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহত শিশু ও শিক্ষকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দিও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চাওয়ার পাশাপাশি আহত শিশুদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্কুলের ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
পাকিস্তানে একের পর এক ভবনধস
পাকিস্তানে ভবন ও ছাদ ধসে হতাহতের ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে দেশটিতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
গত জুলাইয়ে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের একাংশ ধসে তিন শিশু নিহত হয়। তাদের বয়স ছিল ৩ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। একই মাসে লাহোরের বাগবানপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত হয় এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়।
এর আগে জুনে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু প্রাণ হারায়। এর দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজি খানের একটি বেসরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত হয়। ওই ঘটনায় আহত হয় আরও ২০ জন।
সাম্প্রতিক এসব দুর্ঘটনা পাকিস্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন নির্মাণের মান, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিয়মিত অবকাঠামো পরিদর্শনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সূত্র : জিও নিউজ