৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ২৪০টি ট্রেন বাতিলের অভিযোগ | পুলিশি নির্যাতন ও নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তা নিয়ে তদন্তের দাবি | রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবকে নোটিশ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক বিক্ষোভ ঘিরে জনজীবন অচল হয়ে পড়া এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি দাবি করেছেন, গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা হয়নি। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানোর উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই দিন রাজধানীর ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, দূরপাল্লার ২৪০টি ট্রেন বাতিল, ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করা এবং বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানোর অভিযোগ ওঠে। এসব পদক্ষেপের ফলে দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত হয়।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি পুলিশ এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠান। সেই নোটিশের জবাবেই স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
নিরাপত্তার যুক্তি স্বরাষ্ট্রসচিবের
সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হলফনামায় গোবিন্দ মোহন দাবি করেন, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। এর আগে ২০ জুলাই একই সংগঠনের ডাকে ‘পার্লামেন্ট চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং অনেকে আহত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওই ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়।
স্বরাষ্ট্রসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল না আদালতের নির্দেশ অমান্য করা। বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকানোই ছিল বিধিনিষেধ আরোপের মূল কারণ।
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের বিষয়ে হলফনামায় বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত রাইসিনা হিলসের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুধু মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে ওয়াই-ফাই ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু ছিল বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রসচিব।
৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধের ব্যাখ্যা
দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষও সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে হলফনামা জমা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, পুলিশের পরামর্শ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ১০ অক্টোবর ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
দিল্লি মেট্রোর তিন শতাধিক স্টেশনের মধ্যে নির্দিষ্ট কয়েকটি স্টেশন বন্ধ থাকলেও বাকি অংশে পরিষেবা চালু ছিল বলে আদালতকে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে বিক্ষোভের দিন মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল এবং বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানোর কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশের পরও এত বিস্তৃত পরিসরে বিধিনিষেধ আরোপ কতটা যুক্তিসংগত ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, নেওয়া হয়েছিল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারও সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই পুলিশ প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল।
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য, দিল্লি ভারতের রাজধানী হওয়ায় এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কর্মসূচিতে অশান্তি, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করেন তিনি। ২০ জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ১০ অক্টোবর কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি পুলিশ।
আটক বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি বলেও হলফনামায় দাবি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের চা, কফি ও খাবার দেওয়া হয়েছিল এবং কয়েক ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক রাজনীতিবিদদের সম্মানহানি হয়, এমন কোনো আচরণ করা হয়নি বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
তবে বিরোধী দল ও বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য পুলিশের এই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁদের অভিযোগ, বিক্ষোভের সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আটক ও হয়রানির শিকার তরুণ-তরুণীদের অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তোলা কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করেছিলেন। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপের সীমা অতিক্রম করে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তার অভিযোগ
১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত পুলিশকে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সব ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেন কোনো দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল বলেন, বর্তমানে প্রকৃত সাংবাদিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরি করা ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজেদের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হাতে মাইক ও ক্যামেরা নিয়ে বিভিন্ন ঘটনা ধারণ করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সাংবাদিকদের পরিচয় নিয়ে এই বিতর্কের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে আদালতের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশের ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন
দিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে ভবিষ্যতে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের জারি করা নির্দেশিকাও সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশকে নোটিশ দিয়েছেন আদালত।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানতে চান, দিল্লিতে বিক্ষোভের বিকল্প স্থান নির্ধারণের বিষয়ে ৯ অক্টোবর আদালতের পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতেই কি যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীর আইনজীবী মুক্তা গুপ্তা আদালতে বলেন, প্রতিবাদের স্থান এমন হওয়া প্রয়োজন, যেখান থেকে মানুষের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদের অধিকার কার্যকর রাখতে হলে এমন স্থান নির্ধারণ জরুরি, যেখানে বিক্ষোভের বার্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, যন্তর মন্তর নিয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসংগত, তা আদালত পর্যালোচনা করবেন।
এই শুনানিতে প্রতিবাদের অধিকার ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। নিরাপত্তার কারণে প্রশাসন বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও সেই পদক্ষেপে প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার অযথা সীমিত হচ্ছে কি না, তা আদালতের বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট অভিযানকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় তাঁদের নোটিশ পাঠিয়েছেন আদালত।
বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া এই মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করে গিয়ে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে এনেছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে বিচার বিভাগকে লক্ষ্যবস্তু করা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।
বৃহস্পতিবার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, কেউ বিচার বিভাগকে ভয় দেখাতে বা প্রভাবিত করতে পারবেন না। বিরোধী নেতাদের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তিনি বলেন, এভাবে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়। বিচারকেরা দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং তাঁরা বিচ্ছিন্নভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ মামলায় রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। তবে নোটিশ জারি হওয়া মানেই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। মামলার পরবর্তী শুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনি যুক্তি বিবেচনা করা হবে।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরোধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে নির্বাচনী সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি তুলেছে ইন্ডিয়া জোট।
বিরোধী নেতারা এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। একই দাবি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিরোধী নেতারা মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টে যান এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মামলা করেন।
বিরোধীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সদস্য জ্ঞানেশ কুমার, সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর কাছে জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের অবস্থান এখন বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। তবে ভোটার তালিকায় কারচুপি বা কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
আদালতের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
দিল্লিতে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে একাধিক মামলা ও আবেদনের শুনানি থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, নিরাপত্তার স্বার্থে গণপরিবহন ও ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত কতটা প্রয়োজনীয় ছিল এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি আচরণ আইনসিদ্ধ ছিল কি না।
একই সঙ্গে নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের অধিকার এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগও বিচারিক পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রসচিবের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেও আদালত অবমাননার অভিযোগের নিষ্পত্তি বা সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়। এসব বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি ও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: এএনআই