বিশ্ব

ভারত বাংলাদেশ নয়

গণতন্ত্র প্রান্তিক চরমপন্থীদের উপস্থিতি সামলে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু মূলধারার রাজনীতি যখন গণতন্ত্রের সীমারেখা এবং গণতন্ত্রের আত্মবিনাশের সূচনাবিন্দু ভুলে যায়, তখন তার মূল্য চড়া হতে পারে।

  • 11:56 am - October 16, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৬১ বার
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের কাছে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল | ছবির ক্রেডিট: সুশীল কুমার ভার্মা

শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা যাক: কোনো ছাত্রনেতার ভারতে বাংলাদেশ ধাঁচের সরকার পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলা আসল সমস্যা নয়। এমন মানুষ সব সময়ই ছিল—কেউ উগ্র, কেউ উগ্রপন্থায় প্রভাবিত; কেউ পথভ্রষ্ট, কেউ বিপথে পরিচালিত; কেউ অস্থির, কেউ অস্থিরতা সৃষ্টিকারী। প্রকৃত সমস্যা হলো, একসময় রাজনীতির প্রান্তে সীমাবদ্ধ থাকা এসব ব্যক্তিকে মূলধারায় নিয়ে আসা।

তারা এখন আর প্রান্তে নেই। আর সেখানেই ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘শিল্পকলা ও নন্দনতত্ত্ব’ নিয়ে পড়াশোনা করা এক তরুণ ছাত্রনেত্রী বাংলাদেশের সেই ‘তরুণ আন্দোলন’ উদ্‌যাপন করতে গিয়ে একেবারেই অনান্দনিক একটি রাজনৈতিক অবস্থান নেন, যে আন্দোলন শেখ হাসিনার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিল। ওই ছাত্রনেত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দেশে আমরা সর্বত্র যে জেন জি আন্দোলন দেখতে পাচ্ছি, তার শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানোর জন্য এবং এই দেশের তরুণদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন।’

সাধারণ পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্যকে গুরুত্বহীন কোনো উগ্র ছাত্রকর্মীর প্রলাপ বলে উপেক্ষা করা যেত। কিন্তু এই ছাত্রনেত্রী আর গুরুত্বহীন ছিলেন না। রাজধানীর সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দেশের বিরোধীদলীয় নেতা তাঁকে নিজের পাশে হাঁটতে দিয়েছেন, অথচ তাঁর নিজের দলের কিছু জ্যেষ্ঠ সহকর্মী ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পেছনে পড়ে গেছেন।

আসল বিষয়টি সেখানেই। শুধু ওই ছাত্রনেত্রী কী বলেছেন তা নয়, বরং কারা তাঁকে রাজনৈতিক বৈধতা দিতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছিলেন। বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর বক্তব্য বেপরোয়া ও বিপজ্জনক—এবং উদ্বেগজনকও। কিন্তু আরও বিপজ্জনক হলো, এমন প্রান্তিক কণ্ঠস্বরকে মূলধারায় নিয়ে আসতে দেশের প্রাচীনতম দলটির দৃশ্যমান আগ্রহ।

এমন সন্দেহ করার কারণ রয়েছে যে, সাধারণত পরস্পর বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন শক্তি দেশে বাংলাদেশধাঁচের রাজনৈতিক upheaval বা বড় ধরনের ওলটপালটের ধারণাকে কেন্দ্র করে একত্র হতে পারে। তাদের প্রেরণা আলাদা হতে পারে, কিন্তু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক স্বার্থ এক জায়গায় মিলে যায়। কারও ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘদিন নির্বাচনী সাফল্য থেকে বঞ্চিত থাকার রাজনৈতিক মরিয়া মনোভাব। অন্যদের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ও সভ্যতাগত ভারত ধারণাটির প্রতিই আদর্শিক বিরোধিতা। আবার কেউ কেউ নয়াদিল্লির বৈশ্বিক ভূকৌশলগত শক্তিকেন্দ্র হিসেবে উত্থানকে নিজেদের স্বার্থের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে পারে।

তাদের ক্ষোভ ও কর্মসূচি আলাদা হতে পারে, কিন্তু সম্ভাব্য লক্ষ্য একই। এখানেই আসে তথাকথিত সরকার পরিবর্তনের ‘টুলকিট’-এর প্রসঙ্গ। তাদের প্রতিবাদ আন্দোলনের কার্যপদ্ধতি দেখে মনে হয়, তা ‘৩ দশমিক ৫ শতাংশের নিয়ম’-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই ধারণার সঙ্গে অহিংস প্রতিরোধের প্রভাবশালী তাত্ত্বিক জিন শার্পের নাম পরোক্ষভাবে যুক্ত করা হয়। তাঁকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি ‘লেনিন বা মাওয়ের পর অন্য যে কারও চেয়ে বেশি বিপ্লবের জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী’। তবে নিয়মটি পরে প্রণয়ন করেন হার্ভার্ডের অধ্যাপক এরিকা চেনোওয়েথ।

এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশে সরকার পরিবর্তন ঘটাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন ছোট কিন্তু অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি সংগঠিত গোষ্ঠীর—মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

যারা সরকার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, তাদের কাছে এর আকর্ষণ কল্পনা করুন: দেশের জনসংখ্যার মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশকে রাস্তায় নামিয়ে একটি ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লব’ ঘটিয়ে দেওয়া। এমন এক গণতান্ত্রিক বিপ্লব, যেখানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হয় ওই বিক্ষোভের বিরোধী, নয়তো উদাসীন। তবুও সেটি গণতান্ত্রিক!

বাংলাদেশের কথা মনে করুন, যেখানে এমন স্বার্থান্বেষী শক্তি—জামায়াতের গুণ্ডাদের নেতৃত্বে এবং পশ্চিমের সরকার পরিবর্তনের কারিগরদের তত্ত্বাবধানে—একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে তার জায়গায় একটি ইসলামপন্থী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। সেই শাসনের নেতৃত্বে বসেছে আমেরিকার ডিপ স্টেট ও জর্জ সরোস গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা এক ‘অর্থনীতিবিদ’ দুর্বৃত্ত।

ব্যালটের মাধ্যমে অর্জন না করেই একটি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া হলো। অথচ একেই বলা হচ্ছে ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লব’!

নাগরিক প্রতিরোধের কার্যপদ্ধতি বুঝতে হলে জিন শার্পের কাছে ফিরে যেতে হয়। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ The Politics of Nonviolent Action-এ সরকার পরিবর্তনের টুলকিটভিত্তিক কর্মসূচি শুরু করার ক্ষেত্রে তিনি দুটি বিষয়ের ওপর জোর দেন। প্রথমত, তথাকথিত প্রতিবাদ হতে হবে অহিংস, অথবা অন্তত দেখতে অহিংস হতে হবে, যাতে নৈতিক উচ্চভূমি দখল করা যায়। দ্বিতীয়ত, তিনি ‘সংগ্রামের কৌশল’ তুলে ধরেন। এতে অনুসারীদের প্রতীকী রং, মিছিল, নীরব অবস্থান, ইংরেজিতে লেখা ব্যানার—আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের জন্য—ব্যঙ্গাত্মক পুরস্কার, অর্থনৈতিক বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহারের প্রচারাভিযান ও ধর্মঘট ব্যবহারের কথা বলা হয়। পাশাপাশি অনশনের মতো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব সৃষ্টিকারী পদ্ধতিও রয়েছে।

আজ শার্পের লেখা পড়লে অদ্ভুতভাবে মনে হয়, এসব যেন আগেও দেখা। গত এক দশকে আমরা কি দেশে এসব কৌশলের অনেকগুলোই দেখিনি? আর এ বছর কি সেগুলো আরও গতি পায়নি? প্রতীকের ব্যবহার, অবস্থান কর্মসূচি, স্লোগান, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন, সমন্বিত প্রচারাভিযান এবং নির্দিষ্ট ক্ষোভকে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা—এসব কি আমাদের পরিচিত নয়?

তাহলে এখন পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে কেন? একটি স্পষ্ট কারণ হলো, দেশটি এত বড় যে কোনো একটি ধারণা দিয়ে তার সামগ্রিক মনোজগৎকে আকৃষ্ট করা কঠিন। ভারতের জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৫ শতাংশও পাঁচ কোটির বেশি মানুষ। যেকোনো বিবেচনায় এত মানুষকে একত্র করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ।

পাশাপাশি দেশটি বৈচিত্র্যময়। একটি কর্মসূচি দিয়ে গোটা দেশকে আলোড়িত করা প্রায় অসম্ভব। এমনকি ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার পরও দুটি বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল: ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে উত্তর ভারত কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করলেও দক্ষিণ ভারত দলটিকেই সমর্থন করেছিল। ইউক্রেন, মিসর, বাংলাদেশ কিংবা নেপালের মতো দেশে যে টুলকিট ভালো কাজ করে, ভারতে তা গতি পেতে ব্যর্থ হয় এখানেই।

দ্বিতীয় কারণটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের বহু নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে এমন সমাজে, যেখানে কর্তৃত্ববাদ, দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কিংবা ভিন্নমতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। সব অপূর্ণতা সত্ত্বেও ভারতের রয়েছে একটি দৃঢ় নির্বাচনী গণতন্ত্র, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং গভীরভাবে প্রোথিত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জিন শার্প চিহ্নিত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রক্রিয়াগুলোর একটি হলো ‘রাজনৈতিক জুজুৎসু’। ধারণাটি সহজ, কিন্তু এর প্রভাব প্রবল: একটি শক্তিশালী সরকার যখন মূলত অহিংস আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখন যাদের দমন করতে চায়, শেষ পর্যন্ত তাদেরই শক্তিশালী করে তুলতে পারে। সরকারের শক্তিই তার দুর্বলতায় পরিণত হয়। তার দমনমূলক প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে প্রতিবাদ আন্দোলনের নৈতিক অস্ত্র। দমন-পীড়ন সহানুভূতি তৈরি করে, সহানুভূতি মানুষকে সংগঠিত করে এবং সেই সংগঠিত জনশক্তি একসময় কর্তৃত্বকে দুর্বল করতে পারে।

শার্প বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করেছেন: ‘মূলত রাজনৈতিক সহিংসতার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোনো ব্যবস্থাকে যখন সক্রিয়ভাবে, যদিও অহিংস উপায়ে, চ্যালেঞ্জ করা হয়, তখন অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সংকটকালে সেই ব্যবস্থার মৌলিক চরিত্র আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে বলে আশা করা যায়।’

যুক্তিটি পরিষ্কার। সরকারের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া একটি প্রতিবাদ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের প্রকৃত গণতান্ত্রিক চরিত্র জাতীয় পর্যায়ে এই কৌশল কাজে লাগানো কঠিন করে তোলে। দেশে ভিন্নমত প্রকাশের সাংবিধানিক পথ, আলোচনার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে না দিয়েই ব্যর্থ সরকারকে সরিয়ে দেওয়া যায়।

সাম্প্রতিক দুটি প্রতিবাদের দিকে তাকানো যেতে পারে। প্রথমত, ২০২০–২১ সালের কৃষক আন্দোলনের সময় সরকার কখনো আলোচনা বন্ধ করেনি এবং বিরোধিতার জন্ম দেওয়া বিধানগুলোও প্রত্যাহার করেছে। আর এ বছরের ছাত্র আন্দোলনের সময় নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার অনিয়মের নৈতিক দায় নিয়ে দেশের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।

কৃষি আইন প্রত্যাহারের বিচক্ষণতা কিংবা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ধরন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক শিক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ: সরকার সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে।

ঠিক এ কারণেই ভারতীয় গণতন্ত্র দৃঢ়। যে সরকার বিতর্ক, আলোচনা ও বিবেচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের জবাব দেয়, সে তার বিরোধীদের প্রতিটি মতবিরোধকে নিপীড়ক রাষ্ট্র ও অসহায় জনগণের মধ্যকার লড়াই হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে।

তবে গণতন্ত্রের দৃঢ়তাকে তার অজেয়তা বলে ভুল করা উচিত নয়। কোনো দেশের ভিন্নমতকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সাংবিধানিক গণতন্ত্রের প্রতি যাদের অঙ্গীকার সন্দেহজনক, তারা ভিন্নমতকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে কি না, সে বিষয়ে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।

একটি সরকারের বিরোধিতা করা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈধতাকে অস্বীকার করার চেষ্টার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের দাবি এবং সংবিধানবহির্ভূত উৎখাতকে রোমান্টিকভাবে উপস্থাপনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবাদের অধিকার চর্চা এবং রাজপথে জনসমাবেশকে ব্যালটের বিকল্প হিসেবে বিবেচনার মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে।

এখানেই রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রান্তিক শক্তিকে সম্প্রতি মূলধারায় নিয়ে আসার প্রবণতা—বিশেষ করে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে—একই সঙ্গে বিপজ্জনক ও অসৎ।

প্রতিটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের উপলব্ধি করা উচিত, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিহিত রয়েছে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক বিকল্প পুনর্গঠনের মধ্যে; প্রান্তিক উগ্রপন্থাকে মূলধারার বিরোধী রাজনীতির মর্যাদা দেওয়ার মধ্যে নয়।

আসল বিপদ এই নয় যে, মুষ্টিমেয় কিছু উগ্রপন্থী ভারতে বাংলাদেশের পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখছে। বিপদ শুরু হয় তখন, যখন যাদের আরও বিচক্ষণ হওয়ার কথা, তারাই সেই স্বপ্নকে বৈধ রাজনৈতিক সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে।

গণতন্ত্র তার প্রান্তিক শক্তিগুলোকে সামলে টিকে থাকতে পারে। কিন্তু মূলধারার রাজনীতি যখন ভুলে যায় কোথায় গণতন্ত্রের সীমা শেষ এবং কোথা থেকে গণতন্ত্রের আত্মবিনাশ শুরু, তখন তা সহ্য করার সামর্থ্য গণতন্ত্রের থাকে না।

লেখক পরিচিতি: উৎপল কুমার ‘Bharat Rising: Dharma, Democracy, Diplomacy’ এবং ‘Eminent Distorians: Twists and Truths in Bharat’s History’ বইয়ের লেখক। তিনি ফার্স্টপোস্ট ও নিউজ১৮-এর মতামত সম্পাদক। মূল নিবন্ধে প্রকাশিত

এই শাখার আরও খবর

‘কাজ নাই, বেতন নাই’ উত্তরায় ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ

বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকায় পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শ্রম…

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতদের বড় অংশ তরুণ

চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ তরুণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীরা মোট হাসপাতালে…

সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে প্রশাসন ও নাগরিকের দায়

সন্ত্রাসবাদ একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাধি। এটি একটি সমাজের শান্তি, মানুষের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা…

‘গুলির শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি স্বামীর লাশ পড়ে আছে’

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে…

ওষুধ কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ ঢাবির সাবেক অধ্যাপক দুলাল কান্তি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওষুধ কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দুলাল কান্তি ভৌমিক। তাঁর সন্ধান চেয়ে…

বাংলাদেশ: সব নাগরিকের রাষ্ট্র, নাকি তৌহিদি জনতার শাসনাধীন রাষ্ট্র?

বাংলাদেশে উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতার ভয়াবহ বিপদ সামনে এনেছে সাতক্ষীরায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যু। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au