‘কাজ নাই, বেতন নাই’ উত্তরায় ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ
বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকায় পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শ্রম…
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার তেলনজিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্ত্রী অনিন্দিতা সংমা জানিয়েছেন, গুলির শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে তিনি স্বামীকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তেলনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি দোকানে চা পান করতে যান লুৎফুজ্জামান। চা খেয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় দোকানে নিজের মোবাইল ফোন ফেলে যাওয়ার কথা মনে পড়ে তাঁর। ফোন নিতে আবার দোকানে ফিরে এলে দুই যুবক সেখানে এসে প্রথমে সিগারেট চান। এরপর হঠাৎ তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন তাঁরা। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই দুই যুবক পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় লুৎফুজ্জামানকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় চা-দোকানি রবিন রাংছা জানান, তিনি তখন দোকানে চায়ের কাপ পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় দুই যুবক এসে লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগেও লুৎফুজ্জামানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। সে সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়।
নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী অনিন্দিতা সংমা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে তাঁর স্বামী বাসায় বসে সংবাদ লিখছিলেন। সন্ধ্যার পর গুলির শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে তিনি স্বামীকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি বলেন, তাঁর স্বামীর ওপর আগেও হামলা হয়েছিল। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চান তিনি।
প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের মেয়ে অনিন্দিতা সংমার সঙ্গে বিয়ে হয় লুৎফুজ্জামানের। তাঁদের চার বছর বয়সী একটি মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ছেলের মরদেহ দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা জবেদা আক্তার। তিনি ছেলেকে হত্যার কারণ জানতে চেয়ে বিচার দাবি করেন। নিহতের বড় বোন কল্পনা আক্তার ও ভাই ছাদেক ফকিরের অভিযোগ, লুৎফুজ্জামান সত্য প্রকাশ করতেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন। তাঁরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au