দুই মাসের কম সময়ে ফের ঢাকায় ভুটানের রাজা, যাত্রাবিরতির আড়ালে কি ঘটছে?
দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেছে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুককে বহনকারী একটি বিমান। শুক্রবার দুপুরে ড্রুক এয়ারের…
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কবির ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলায় আয়োজিত আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। পরিবারের সদস্যদের মতে, সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে কবির সাহিত্যিক অবদান সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি রাখে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাগেরহাটের মোংলায় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা, সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কবির গ্রামের বাড়ি মিঠাখালী বাজার থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে তাঁর সমাধিস্থলে গিয়ে শেষ হয়। পরে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন অতিথি ও স্থানীয়রা। কবির আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের পর তাঁর বাড়িতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও কবির অনুজ সুমেল সারাফাতের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্পিতা হালদার। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় সুমেল সারাফাত বলেন, সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বোধে উজ্জ্বল রুদ্রের কবিতা। অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে তাঁর অনমনীয় অবস্থান তাঁকে তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীকে পরিণত করেছে। তাঁর কবিতায় প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রেম, স্বপ্ন ও সুন্দরের মগ্নতাও রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বল্পায়ু জীবনে রুদ্র সাতটি কাব্যগ্রন্থ, গল্প, কাব্যনাট্য এবং অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। একুশে পদক, শ্রেষ্ঠ গীতিকারের সম্মাননা ও মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এখন পরিবারের পক্ষ থেকে কবিকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে।
১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম নেওয়া রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সত্তরের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম শক্তিমান কণ্ঠস্বর। তাঁর কবিতায় প্রেম ও দ্রোহ পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক বৈষম্য, স্বৈরাচার, শোষণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর উচ্চারণ তাঁকে প্রতিবাদী কবি হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।
১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উপদ্রুত উপকূলে’। এ গ্রন্থে স্থান পাওয়া ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতাটি তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। পরে ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’, ‘মানুষের মানচিত্র’, ‘ছোবল’ ও ‘মৌলিক মুখোশ’সহ একাধিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
কবিতার পাশাপাশি গান রচনা ও সুরারোপেও খ্যাতি অর্জন করেন রুদ্র। তাঁর লেখা ‘আমার ভিতরে বাহিরে অন্তরে অন্তরে’ গানটি দুই বাংলার শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ‘ভালো আছি, ভালো থেকো’ গানটিও তাঁকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে রেখেছে।
রুদ্র জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা-যুগ্ম সম্পাদক এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি সাহিত্যকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান এই কবি। জীবদ্দশায় প্রকাশিত সাতটি কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যকর্ম মৃত্যুর পরও পাঠক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
২০২৪ সালে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। এর আগে ১৯৯৭ সালে তিনি মরণোত্তর শ্রেষ্ঠ গীতিকারের সম্মাননা পান। এবার তাঁর জন্মবার্ষিকীতে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা পদকের দাবি তোলা হলো।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au