দুই মাসের কম সময়ে ফের ঢাকায় ভুটানের রাজা, যাত্রাবিরতির আড়ালে কি ঘটছে?
দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেছে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুককে বহনকারী একটি বিমান। শুক্রবার দুপুরে ড্রুক এয়ারের…
মেলবোর্ন: কারও কাছে শিকড়ের টান, কারও কাছে প্রবাসে প্রথম দুর্গাপূজার অভিজ্ঞতা, আবার কারও কাছে পরিচিত মানুষদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উপলক্ষ। এমন নানা অনুভূতি একসঙ্গে মিলেছে মেলবোর্নে সনাতন আর্ট অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ভিক্টোরিয়া—সাকাভের দুর্গাপূজা ২০২৬-এ। ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানবতাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই উৎসব হয়ে উঠেছে প্রবাসী মানুষের এক মিলনমেলা।
হপার্স ক্রসিংয়ের ৭/৪১৯–৪২৫ ওল্ড জিলং রোডে অবস্থিত ভিক্টোরিয়ান বাংলাদেশি কমিউনিটি হাবে চলছে এই আয়োজন। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এখানে গুরুত্ব পাচ্ছে পারস্পরিক সম্পর্ক, বাঙালি সংস্কৃতি এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নিজেদের ঐতিহয়ের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—কথাটি যেন প্রাণ পেয়েছে পূজার এই প্রাঙ্গণে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ পেরিয়ে উপস্থিত মানুষ একসঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন উৎসবের আনন্দ। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এই সমাগম তাঁদের জন্য হয়ে উঠেছে কাছে আসার, কথা বলার এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ।
ওটিএন বাংলার সঙ্গে আলাপকালে উপস্থিত অতিথি ও পূজার্থীরা প্রকাশ করেন তাঁদের উচ্ছ্বাস। অনেকে জানান, প্রবাসের মাটিতে এই প্রথম দুর্গাপূজায় অংশ নিচ্ছেন তাঁরা। দেশের বাইরে এমন আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পেরে আনন্দের কথা বলেন তাঁরা। অন্যদের বক্তব্যেও উঠে আসে উৎসবকে ঘিরে একসঙ্গে থাকার অনুভূতি এবং সবার জন্য শুভকামনা।
এই আয়োজনের ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ওটিএন বাংলার সঙ্গে কথা বলেন পূজা আয়োজক কমিটির সদস্যরাও। তাঁদের কথায় উঠে আসে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়।
সংগঠনের সভাপতি রাসেন্দ্র দাস জানান, সাকাভের কার্যক্রম শুধু পূজা-পার্বণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে সেই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার পৌঁছে দিতে সংগঠনটি কাজ করে যাবে।
তাঁর এই বক্তব্যে উঠে আসে প্রবাসে এমন আয়োজনের আরেকটি তাৎপর্য। অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে দুর্গাপূজা হয়ে উঠতে পারে নিজেদের পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক শিকড়কে জানার একটি উপলক্ষ। উৎসবে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা পরিচিত হতে পারে বাঙালির ঐতিহ্য এবং সম্মিলিত আনন্দের সঙ্গে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ রায় বলেন, সাকাভের পূজায় সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের উপস্থিতি দেখে তাঁর খুব ভালো লাগছে। এই সম্প্রীতির ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানান তিনি।
দুর্গাপূজার কেন্দ্রে রয়েছে অশুভের বিনাশ ও শুভশক্তির জয়ের বার্তা। দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার কাছে মানুষের প্রার্থনা—দূর হোক দুঃখ ও দুর্গতি, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি ও কল্যাণ। মেলবোর্নের এই আয়োজনেও সেই প্রার্থনার সঙ্গে মিশেছে মানুষের পাশে মানুষ হয়ে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা।
সাকাভের দুর্গোৎসব তাই ধর্মীয় আরাধনার পাশাপাশি হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যকে ধারণ করার এবং সম্প্রীতির বন্ধনকে দৃঢ় করার একটি উপলক্ষ। প্রবাসের মাটিতে নানা পরিচয়ের মানুষের একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই এখানে ধ্বনিত হচ্ছে মানবতার জয়গান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au