কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত অন্তত ২০। ছবিঃ সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উত্তরাঞ্চলে দুর্গাপূজার মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও এক শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়ি থেকে পদদলনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের সংখ্যা ও আহতদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য এসেছে।
কলকাতা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির কারণে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের চাপ বেড়ে যায়। প্রবেশপথে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে পদদলনের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ, দমকল বাহিনী, দুর্যোগ মোকাবিলা দল, চিকিৎসক ও ফরেনসিক দল পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মণ্ডপটি সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং বা তথ্য অনুসন্ধান করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এখন সরকারের প্রধান কাজ। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে দুর্গাপূজার বাকি দিনগুলোতে মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করতে হবে। যেসব মণ্ডপে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রয়েছে, সেসব জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পূজা কমিটিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্য পূজা কমিটিগুলোকে নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পুলিশকেও মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে যেসব স্থানে ঝুঁকি রয়েছে, সেসব জায়গা সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখার কথাও বলেন তিনি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, চোরবাগান পূজামণ্ডপে পদদলনের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সময়ে শক্তি ও সাহস কামনা করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে মণ্ডপের প্রবেশপথ ও বের হওয়ার পথের সংকীর্ণতা এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাবের বিষয়টি। তাঁদের একজন জানান, পদদলনের সময় অনেক দর্শনার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ খুবই সরু ছিল। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। তাঁর মেয়ে ও নাতনি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের হুড়োহুড়িকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের বিন্যাস, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, আলোর ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তথ্য অনুসন্ধান করা হবে। একই সঙ্গে দুর্গাপূজার বাকি দিনগুলোতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও পূজা কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ টিভি৯ বাংলা