পাঁচ বছরের সাধনা, তবু গেজেটে নেই নাম: উত্তর খুঁজছেন চিকিৎসক কুশল দাস. ছবি: ওটিএন বাংলা
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ার খবর নিয়ে এসেছিল বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর আশা। মনে হয়েছিল, দীর্ঘ পরিশ্রম ও অপেক্ষার পর এবার পরিবারকে কিছুটা নিশ্চিন্ত করা যাবে। কিন্তু সেই আনন্দ এখন কষ্ট ও অনিশ্চয়তায় রূপ নিয়েছে চিকিৎসক কুশল দাসের জীবনে। ৪৫তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগের গেজেটে নাম না আসার কথা জানিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

৪৫তম বিসিএসে সুপারিশ পেয়েও গেজেটে নাম না আসার কথা জানিয়ে ফেসবুকে কষ্ট ও হতাশা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক কুশল দাস। Photo: Facebook Screenshot
সেখানে উঠে এসেছে তাঁর চিকিৎসক হয়ে ওঠার সংগ্রাম, বাবা-মায়ের ত্যাগ, স্ত্রীর সহযোগিতা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার কথা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর প্রশ্ন—কী কারণে সুপারিশ পাওয়ার পরও গেজেটে নাম এল না?
দিনাজপুরের বাসিন্দা কুশল দাস সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন বলে স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই চিকিৎসকের ভাষায়, তাঁর পড়াশোনার পেছনে শুধু অর্থ ব্যয় হয়নি; জড়িয়ে আছে বাবার অসংখ্য দিনের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা এবং মায়ের নির্ঘুম রাতের দুশ্চিন্তা।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি সালাউদ্দিন আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি এবং তাঁদের স্ট্যাটাসের কথাও উল্লেখ করেন।
বাবা-মা চেয়েছিলেন, তাঁদের সন্তান নিজের পায়ে দাঁড়াক, সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করুক এবং মানুষের সেবা করুক। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই চিকিৎসক হওয়া, এরপর সরকারি স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি।
কুশল লিখেছেন, বিসিএসের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে আসা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। মৌখিক পরীক্ষার আগেও প্রচণ্ড অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক চাপ সামলে প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। কখনো পড়ার টেবিলেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন, তবু লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
অনেক পরিশ্রমের পর সুপারিশ পাওয়ার খবরে তাঁর মনে হয়েছিল, এবার হয়তো বাবা-মায়ের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটাতে পারবেন।
এই পথচলায় স্ত্রীও বড় ভরসা হয়ে পাশে ছিলেন। কুশল জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী নিজেও একজন চিকিৎসক। স্বামীর পড়াশোনায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য নিজের অনেক শখ ও ইচ্ছা বিসর্জন দিয়েছেন তিনি। দুজনের স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর ও স্থিতিশীল জীবন গড়ে তোলা এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।
কিন্তু গেজেটে নাম না আসায় সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
স্ট্যাটাসে কুশল দাবি করেছেন, তিনি কখনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না। তিনি লিখেছেন, “আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।” এরপর প্রশ্ন তুলেছেন, কোন ভুলে বা কী কারণে তাঁকে গেজেটবঞ্চিত হতে হলো।
যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে বাদ পড়ে থাকলে তা আগে করা হয়নি কেন—সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিনি। তবে গেজেটে নাম না আসার আনুষ্ঠানিক কারণ তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়নি।
দীর্ঘ অপেক্ষার কষ্ট প্রকাশ করে কুশল লিখেছেন, “পাঁচটি বছর ধরে প্রতিটি দিন অপেক্ষার প্রহর গুনেছি। আমার পাঁচটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। এই দিনগুলো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি?”
তাঁর এই প্রশ্নে মিশে আছে নিজের শ্রমের পাশাপাশি একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ত্যাগের বেদনা। যে সুপারিশ নতুন জীবনের আশা জাগিয়েছিল, তার পরও কেন নিয়োগের গেজেটে নাম এল না—এখন সেই উত্তরই জানতে চান তিনি।
প্রতিবেদনটি কুশল দাসের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তুলে ধরা বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। তাঁর সুপারিশ ও নিয়োগসংক্রান্ত নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং গেজেটে নাম না আসার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।