কিছু মৃত্যু কেবল একটি জীবনের অবসান ঘটায় না, থামিয়ে দেয় অসংখ্য সম্ভাবনার অঙ্কুরোদ্গম। কিছু হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে না, একটি জাতির বিবেককে চিরদিনের জন্য প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জীবন ও নির্মম হত্যাকাণ্ড তেমনই এক বেদনাবিধুর ইতিহাস। মাত্র এগারো বছরের ছোট্ট জীবন, অথচ তার স্মৃতি আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন। সে বেঁচে থাকলে আজ হয়তো নিজস্ব মেধা, মনন ও মানবিকতায় আলোকিত করত দেশ ও সমাজকে। বড় বোন শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে হয়ে উঠতে পারত তাঁর অনুপ্রেরণা, নির্ভরতা ও দুঃসময়ের সঙ্গী।
১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর। পাকিস্তানি শাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উত্তাল সময়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত। সেই দিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে জন্ম নেয় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে জন্মের মুহূর্তে সন্তানের পাশে থাকতে পারেননি বঙ্গবন্ধু। একটি শিশুর পৃথিবীতে আগমন যেমন পরিবারে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, রাসেলের জন্মও তেমনি বঙ্গবন্ধুর পরিবারে আনন্দের নতুন অধ্যায় সূচনা করেছিল। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিণতি ছিল সম্পূর্ণ অজানা।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্বখ্যাত দার্শনিক ও মানবতাবাদী বার্ট্রান্ড রাসেলের চিন্তা-দর্শনের অনুরাগী। তাঁর নামের সঙ্গে মিল রেখেই কনিষ্ঠ সন্তানের নাম রাখা হয় শেখ রাসেল। বার্ট্রান্ড রাসেল ছিলেন যুক্তিবাদ, মানবিকতা ও বিশ্বশান্তির পক্ষে উচ্চকণ্ঠ এক মনীষী। ছোট্ট রাসেলের নামের সঙ্গে তাই জড়িয়ে আছে মুক্তচিন্তা ও মানবিক পৃথিবীর এক তাৎপর্যপূর্ণ স্মৃতি।
কিন্তু রাসেলের শৈশব ছিল না আর দশটি শিশুর মতো নির্ভার। তার বাবা ছিলেন একটি জাতির মুক্তির স্বপ্নে নিবেদিতপ্রাণ নেতা। বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে কারাগারে। ফলে বাবার স্নেহ-সান্নিধ্য থেকে বারবার বঞ্চিত হয়েছে ছোট্ট রাসেল। যে বয়সে শিশুরা বাবার হাত ধরে ঘুরে বেড়ায়, গল্প শোনে, আদর-আবদারে মেতে থাকে, সেই বয়সেই রাসেলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য।
কারাগারে বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে রাসেল আর ফিরে আসতে চাইত না। বাবাকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইত। ফেরার সময় তার কান্না থামানো কঠিন হয়ে পড়ত। বড় বোন শেখ হাসিনা তাঁর স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ আমাদের ছোট রাসেল সোনা-তে ছোট ভাইয়ের এমন আবেগঘন স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন। বাবার কারাগারকে রাসেলের কাছে ‘আব্বার বাসা’ হিসেবে বোঝানোর চেষ্টা করা হতো, যাতে শিশুমন বিচ্ছেদের কষ্ট কিছুটা হলেও সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে।
বাবার অনুপস্থিতিতে মা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবই হয়ে উঠেছিলেন রাসেলের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। মাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকার পেছনেও ছিল বাবাকে কাছে পাওয়ার আকুলতা এবং মায়ের স্নেহে সেই শূন্যতা পূরণের এক করুণ পারিবারিক স্মৃতি। এই ছোট্ট ঘটনাটিই যেন প্রকাশ করে, একটি শিশুর কাছে বাবা-মায়ের ভালোবাসা কতটা অপরিহার্য।
ভাইবোনের সম্পর্কের মধ্যে ছোট ভাইয়ের প্রতি বড় বোনের স্নেহের একটি স্বতন্ত্র জায়গা থাকে। শেখ হাসিনা ও শেখ রাসেলের সম্পর্কও ছিল এমনই মায়া-মমতায় ঘেরা। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে রাসেল ছিল সবার আদরের। তার দুরন্তপনা, শিশুসুলভ আবদার, খেলাধুলা এবং সাইকেল চালানোর আনন্দ পরিবারের জীবনে এনে দিত প্রাণচাঞ্চল্য।
কিন্তু এই আনন্দময় স্মৃতির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর বেদনা। বড় বোন শেখ হাসিনার কাছে রাসেল আজীবন সেই ছোট্ট ভাই, যার শৈশব অসমাপ্ত থেকে গেছে। যার বেড়ে ওঠা, কৈশোর, তারুণ্য কিংবা জীবনের পরবর্তী অধ্যায় দেখার সুযোগ আর হয়নি। ভাইকে ঘিরে ভবিষ্যতের যে স্বাভাবিক পারিবারিক স্বপ্ন থাকার কথা, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংসতা তার সবকিছু কেড়ে নেয়।
শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে বিদেশে যাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে তাঁদের সাময়িক বিচ্ছেদ ঘটে। তাঁরা কেউই জানতেন না, এই বিচ্ছেদ পরিণত হবে চিরবিচ্ছেদে। অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে ঘটে যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড। বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে প্রাণ হারায় শেখ রাসেলও। বিদেশে অবস্থান করায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে গেলেও হারান তাঁদের বাবা-মা ও প্রিয়জনদের।
শেখ হাসিনার জীবনে এই শোক শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়; এটি তাঁর ব্যক্তিগত ইতিহাসের গভীরতম ক্ষতগুলোর একটি। ছোট ভাই রাসেলের স্মৃতি তাই তাঁর পারিবারিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে ভাইকে স্নেহ দিয়ে আগলে রাখার কথা ছিল, তার জন্য আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়েছে হারানোর বেদনা।
শেখ রাসেলের শৈশবের নানা স্মৃতিতে ফুটে ওঠে তার সংবেদনশীল ও মমতাময় মন। কবুতরের প্রতি তার ভালোবাসা, পোষা প্রাণীর সঙ্গে সখ্য এবং ছোট ছোট বিষয় নিয়ে তার অভিমান—সবকিছুতেই ধরা পড়ে শিশুটির স্বাভাবিক কোমলতা। প্রাণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সে যেন নিজের চারপাশের জগৎকে ভালোবাসতে শিখেছিল।
একটি শিশুর প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু তার মেধা কিংবা সাফল্যের সম্ভাবনায় নয়, তার হৃদয়ের কোমলতা ও অন্যের প্রতি মমত্ববোধেও প্রকাশ পায়। রাসেলের জীবন আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। তার শৈশবের স্মৃতিগুলো আজও মানুষকে আবেগাপ্লুত করে, কারণ সেগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি স্বাভাবিক, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় জীবনের প্রতিচ্ছবি।
সে যদি বড় হওয়ার সুযোগ পেত, তার ব্যক্তিত্ব কোন পথে বিকশিত হতো, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে তার শৈশবের মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের কল্পনায় একটি সুন্দর ভবিষ্যতের ছবি আঁকে। হয়তো সে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করত, হয়তো বড় বোনের পাশে দাঁড়িয়ে পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব ভাগ করে নিত। সেই সম্ভাবনাগুলো আজ ইতিহাসের অনুত্তরিত প্রশ্ন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর শোকের অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই হত্যাযজ্ঞ থেকে রক্ষা পায়নি শিশু শেখ রাসেলও। তখন তার বয়স মাত্র এগারো বছর।
একটি শিশুর অপরাধ কী হতে পারে? তার তো ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বোঝার বয়স হয়নি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হিসাব বোঝারও কথা নয়। তার পৃথিবী ছিল বাবা-মা, ভাইবোন, খেলাধুলা, আদর-আবদার আর ছোট ছোট স্বপ্নে গড়া। অথচ সেই শিশুকেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; এটি মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও সভ্যতার ওপর এক ভয়াবহ আঘাত।
শেখ রাসেলের হত্যাকাণ্ডের স্মরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিহিংসার সবচেয়ে নির্মম শিকার অনেক সময় নিরপরাধ মানুষ, এমনকি শিশুরাও হয়। কোনো রাজনৈতিক বিরোধ, ক্ষমতার লড়াই কিংবা মতাদর্শগত সংঘাত কখনোই একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়ার নৈতিক বৈধতা দিতে পারে না।
ইতিহাসের এই নির্মম অধ্যায় থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজে এমন পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মানুষের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকবে। শিশুদের ওপর সহিংসতা কিংবা তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার বিরুদ্ধে সমাজকে হতে হবে আপসহীন।
শেখ রাসেল যদি সেদিনের হত্যাযজ্ঞে প্রাণ না হারাত, তাহলে আজ তার জীবন হতো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইতিহাস। সে বড় হয়ে কী করত, কোন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করত, কিংবা দেশের জন্য কী অবদান রাখত—তা কেবল কল্পনা করা যায়। তবে এটুকু বলা যায়, পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে বড় বোন শেখ হাসিনার জীবনে তার উপস্থিতি নিঃসন্দেহে এক বিশেষ আবেগের জায়গা হয়ে থাকত।
জীবনের নানা সংকট, পারিবারিক স্মৃতি এবং প্রিয়জন হারানোর বেদনার মধ্যে ছোট ভাইয়ের সান্নিধ্য যে কতটা মানসিক শক্তি জোগাতে পারত, তা সহজেই অনুভব করা যায়। রাসেল বেঁচে থাকলে হয়তো বড় বোনের সঙ্গে তার স্মৃতিচারণ, হাসি-আড্ডা ও পারিবারিক মুহূর্তগুলো জীবনের স্বাভাবিক ধারায় এগিয়ে যেত। পরিবারের আনন্দ-বেদনার অংশীদার হয়ে সে হয়তো নিজের মতো করে দায়িত্ব পালন করত।
আরও বড় পরিসরে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সন্তান হিসেবে দেশ ও মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধ গড়ে উঠত এটাই স্বাভাবিক। তার জীবন কেড়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে যে সম্ভাবনাগুলো চিরতরে হারিয়ে গেছে, সেই বেদনাই তাকে ঘিরে মানুষের আবেগকে গভীর করে তুলেছে।
শেখ রাসেল তাই শুধু একটি নাম নয়; সে একটি অসমাপ্ত জীবনের প্রতীক। তার স্মৃতি আমাদের ভাবায়, একটি শিশুকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে দেওয়া হলে তার জীবন কত সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারত!
শেখ রাসেলের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানানো মানে শুধু অতীতের শোক স্মরণ করা নয়। তার স্মৃতিকে ধারণ করার অর্থ হলো বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করা। যে শিশুটি নিজেই নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছিল, তার স্মৃতি যেন আমাদের শিশু নির্যাতন, হত্যা, অবহেলা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখায়।
প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। শিশুদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; তাদের শেখাতে হবে মানবিকতা, সহমর্মিতা, সততা, মুক্তচিন্তা ও দেশপ্রেম। তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ হতে হবে ভয়মুক্ত, বৈষম্যহীন ও ভালোবাসাপূর্ণ।
একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার মূল্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ইতিহাসের শিক্ষা যেন ঘৃণা ও প্রতিহিংসা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রেরণা হয়ে ওঠে।
শেখ রাসেলের জীবন আমাদের সামনে যে শূন্যতা রেখে গেছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু তার স্মৃতি থেকে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা পেতে পারি, যেখানে কোনো শিশুকে সহিংসতার শিকার হতে হবে না, কোনো পরিবারকে অকালবিয়োগের অসহনীয় যন্ত্রণা বহন করতে হবে না এবং কোনো সম্ভাবনাময় জীবন নিষ্ঠুরতার কাছে পরাজিত হবে না।
শেখ রাসেল বেঁচে নেই, কিন্তু তার স্মৃতি বেঁচে আছে। বড় বোন শেখ হাসিনার স্মৃতিতে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ইতিহাসে, বাংলাদেশের মানুষের আবেগে এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যয়ে।
শেখ রাসেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের অঙ্গীকার হোক—প্রতিটি শিশুর অধিকার রক্ষা করব, প্রতিটি শিশুর মুখে হাসি ফোটাব, প্রতিটি শিশুর স্বপ্নকে নিরাপদ রাখব।
শহীদ শেখ রাসেলের অসমাপ্ত শৈশব আমাদের হৃদয়ে চিরজাগরূক থাকবে। তাঁর স্মৃতি হোক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা।
বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি শহীদ শেখ রাসেলকে।
( মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি)