বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক। ছবিঃ সংগৃহীত
দেশে বসবাসরত অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুল মালেক। তবে উদারতা বা নমনীয়তার নামে কোনো মুসলমান পূজায় অংশ নিলে কিংবা পূজাকে সঠিক বলে স্বীকৃতি দিলে তাঁর ঈমান থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সম্প্রতি জুমার বয়ানে এসব কথা বলেন মুফতী আব্দুল মালেক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্য ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সমর্থন করা এক বিষয় নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে অমুসলিমদের নিরাপত্তা দেওয়া যেতে পারে, তবে মুসলমানদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও আকিদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আমার দেশ অনলাইন।
বয়ানে ইসলামের মূল ভিত্তি হিসেবে তাওহীদের গুরুত্ব তুলে ধরেন মুফতী আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা হলো এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা। আল্লাহ তাআলা চাইলে তাওহীদে বিশ্বাসীদের অন্যান্য গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু শিরকের মতো গুরুতর পাপ ক্ষমা করবেন না। মানুষকে শিরক থেকে বিরত রেখে তাওহীদের পথে পরিচালিত করতেই যুগে যুগে নবী-রাসুলদের পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অমুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার প্রসঙ্গে বায়তুল মোকাররমের খতিব বলেন, বাংলাদেশে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে। তাঁরা যেন নিরাপদে পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও জরুরি দায়িত্ব।
তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্য ধর্মের বিশ্বাস বা উপাসনায় অংশ নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, মুসলমানদের উদারতা বা নমনীয়তার নামে পূজায় অংশ নেওয়া কিংবা পূজাকে সঠিক পথ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়। তাঁর ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের অংশগ্রহণ বা সমর্থন ঈমানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অর্থাৎ, অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের বিরোধিতা করেননি তিনি। বরং মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সীমারেখা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বয়ানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের তায়েফের ঘটনা তুলে ধরেন মুফতী আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, তায়েফে চরম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও মহানবী (সা.) নির্যাতনকারীদের ধ্বংস কামনা করেননি। বরং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কেউ একসময় এক আল্লাহর ইবাদত করতে পারে, এমন আশায় তাদের প্রতি সহনশীলতা দেখিয়েছিলেন।
এই ঘটনার উল্লেখ করে মুসলমানদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি সমাজে শৃঙ্খলা, ইনসাফ ও নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বয়ানে তাঁর মূল বক্তব্য ছিল, অন্য ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস গ্রহণ বা সমর্থন করা এক বিষয় নয়। অমুসলিমদের ধর্ম পালনের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর মুসলমানদের ক্ষেত্রে নিজস্ব আকিদা অনুসরণ করা ধর্মীয় দায়িত্ব।
সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ