হেলেন হেইনসের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ছবিঃ সংগৃহীত
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ের বাইরে গাড়ির আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন স্বতন্ত্র ফেডারেল সংসদ সদস্য হেলেন হেইনস। এ ঘটনায় আটক ৪৩ বছর বয়সী ব্রেন্ডন নুজেন্টকে মঙ্গলবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোমবার, ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু পর মেলবোর্ন থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে ওয়াঙ্গারাটায় ঘটনাটি ঘটে। ইন্ডি আসনের সংসদ সদস্য হেইনস তাঁর কার্যালয়ের বাইরে একটি সাদা টয়োটা ল্যান্ডক্রুজারের আঘাতে আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাড়িটি পেছনে নিয়ে তাঁকে দ্বিতীয়বার আঘাত করা হয়।
হেইনসের শরীরের নিচের অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তাঁকে প্রথমে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে মেলবোর্নের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর দুই পা হারানোর আশঙ্কার কথা কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে নিশ্চিত চিকিৎসাগত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আটক নুজেন্ট ওয়াঙ্গারাটার পূর্বে ট্যারাওয়িংগি এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর স্থানীয় এক নাপিতসহ উপস্থিত কয়েকজন তাঁকে আটক করতে এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়িতে একটি ছুরি পাওয়া গেছে। নুজেন্টের মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়নও করা হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইও তদন্তে যুক্ত রয়েছে। যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সও তদন্ত করছে। তবে সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততার অর্থ এই নয় যে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে; হামলার উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন।
নুজেন্টের বলে ধারণা করা একটি এক্স অ্যাকাউন্টও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অ্যাকাউন্টে আগে প্রকাশিত একটি ল্যান্ডক্রুজারের ছবির নম্বরপ্লেটের সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ির নম্বরপ্লেটের মিল পাওয়া গেছে। অ্যাকাউন্টটিতে জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং গাজা প্রসঙ্গে বিভিন্ন পোস্ট ছিল। ২০১৯ সালের কিছু পোস্টে হেইনসের প্রতি সমর্থনও প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে এসব পোস্টের সঙ্গে হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে, রাজনৈতিক বক্তব্যে সহিংস ভাষার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এএসআইওর মহাপরিচালক মাইক বার্জেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, বিতর্ক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সুস্থ গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ ভাষা, সামাজিক উত্তেজনা এবং সহিংসতার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক দেখেছে তাঁর সংস্থা।
বার্জেসের মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণ, অসহিষ্ণুতা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থার অবক্ষয় এবং উসকানিমূলক আচরণ সহিংসতার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। বিভিন্ন মতাদর্শের অনুসারীদের মধ্য থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এ ধরনের হামলা খুব অল্প সতর্কসংকেত দিয়ে কিংবা কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি জনপরিসরে সংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শালীন বিতর্কের ওপর গুরুত্ব দেন। হেইনসের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।