ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হলেও এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোও এসব দাবি গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সীমান্তে লাউডস্পিকার সম্প্রচার পুনরায় চালু করা এবং কৌশলগত হামলার সক্ষমতা মোতায়েন বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
এদিকে, চীন সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘটনাবলি ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে চলমান সংবাদ হালনাগাদের অংশ হিসেবে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
কিম জং উন কোমায়, এমন দাবির সত্যতা নিশ্চিত নয়
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা ধরনের খবর ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি চীনে কোমায় থাকতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোও কিমের গুরুতর অসুস্থতার খবরকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ সোমবার জানিয়েছে, কিম জং উন জীবিত ও সুস্থ আছেন এবং তিনি একটি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ১১ অক্টোবর কিমের একটি জাদুঘর পরিদর্শনের ছবি প্রকাশ করে। তবে জাদুঘরটির অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কী জানানো হয়েছে, তা-ও সরবরাহ করা তথ্যে স্পষ্ট নয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে লাউডস্পিকার ও কৌশলগত অস্ত্র মোতায়েনের হুমকি
কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনার পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তসংক্রান্ত হুমকিকে কেন্দ্র করে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে সম্প্রচার পুনরায় চালু করা এবং সীমান্ত এলাকায় কৌশলগত হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ বিষয়ক বিভাগের পরিচালক কিম ইয়ো জং, যিনি কিম জং উনের বোন, বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এসব ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, “যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি হিসেবে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং প্রতিপক্ষের কার্যক্রম দমনের উদ্দেশ্যে আমাদের সামরিক নেতৃত্ব পুরো দক্ষিণ সীমান্তজুড়ে কৌশলগত হামলার উপকরণের মোতায়েন বাড়ানো এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে লাউডস্পিকার সম্প্রচার পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে।”
তাঁর এই বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচারযুদ্ধও জোরদার করার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে উত্তর কোরিয়া ঠিক কী ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগ দক্ষিণ কোরিয়ার
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তর কোরিয়ার সেনারা বারবার সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করেছে। এ কারণে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সতর্ক করতে দক্ষিণ কোরিয়া লাউডস্পিকারের মাধ্যমে সম্প্রচার ব্যবহার করছিল বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দুই কোরিয়ার মধ্যে সামরিক সীমারেখা দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্র। সীমান্তে সেনাদের চলাচল, সামরিক প্রস্তুতি এবং প্রচারমূলক সম্প্রচার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া গত মাসে স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিনজন সামরিক সদস্য আহত হওয়ার জন্যও উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে সিউল। তবে এ ঘটনায় পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়া বা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়া সীমান্তে কৌশলগত হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ঘোষিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কিমের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রশ্নে ট্রাম্পের নীরবতা
চীন সফরের সময় কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে জবাবে তিনি কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ফলে কিমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন এবং সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।
কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা, উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর হুমকি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পাল্টা অভিযোগ, সব মিলিয়ে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রয়েছে।
সূত্রঃ news.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au