ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ওই মহলটি এর আগে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছিল, যা দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। এখন তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তারা সংসদে এসে কথা বলুক, সরকার তাদের বক্তব্য শুনতে চায়। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো প্রস্তাব থাকলে সরকার তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সব ধরনের বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য তিনি জনগণের আরও কাছাকাছি যেতে চান এবং দেশের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সরকার একযোগে কাজ করতে চায়। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষের ভূমিকার কথা স্মরণ
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সব ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনেও ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সরকার এখন আগামীর বাংলাদেশকে শান্তির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে সব শ্রেণি ও ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সব অঞ্চলে সমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে তাঁর দল ক্ষমতায় এসেছে। কোনো অঞ্চলে তাঁরা জয়ী হয়েছেন, আবার কোনো অঞ্চলে জয়ী হতে পারেননি। তবে সরকার মনে করে, দেশের সব মানুষই তাদের নির্বাচিত করেছেন। এ কারণে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান তাঁরা।
রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকার অবকাঠামো এবং সড়ক উন্নয়নে জেলা পরিষদের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল দেশের সব অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
মন্দির উন্নয়নে ১০ লাখ টাকা অনুদান
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে হাজারো নারী-পুরুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
মন্দির পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এর উন্নয়নের জন্য ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক দেন। পাশাপাশি মন্দিরের দরিদ্র ও মেধাবী সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য ছয়তলা ভবন নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের এ অনুষ্ঠানে মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর সাহেব আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও সংসদে আলোচনার সুযোগ এবং দেশের সব অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au