পাবনায় ছাত্রীকে যৌন হয়রানির খবরে মহিলা মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয়রা। ছবি : সংগৃহীত
ওটিএন বাংলা ডেস্ক :
পাবনা সদর উপজেলায় আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবু ইউসুফকে (৫৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসা ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু ইউসুফ একটি একতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন। বাড়ির একটি কক্ষে ছাত্রীরা থাকতেন। তাঁদের সঙ্গে একজন নারী শিক্ষক থাকতেন। পাশের কক্ষে থাকতেন অভিযুক্ত পরিচালক।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কক্ষ থেকে বের হলে আবু ইউসুফ তাকে নিজের কক্ষে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এ সময় আরেক ছাত্রী ঘটনাটি দেখতে পেয়ে বাইরে গিয়ে লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আবু ইউসুফকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসা ভবনে ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে তাঁরা ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
দুপুর ১২টায় দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন। এ সময় ভবনটির আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। মাদ্রাসায় থাকা অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ।
ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত সেখানে যান। অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। তিনি জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে তাঁদের পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আটক শিক্ষককে থানায় রাখা হয়েছে। ক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।