অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. মোখলেছুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এবার সাতক্ষীরায় আরেক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মো. মোখলেছুর রহমান (৪০) নামের ওই শিক্ষক আশাশুনি উপজেলার সরাপপুর দারুসসুন্নাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার পরানদহা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোখলেছুর রহমান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের এক ছাত্রকে বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান। এতে রাজি না হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীকে হয়রানি ও মারধর করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে নিজের কক্ষে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে দিয়ে হাত-পা টেপানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বোর্ডিং থেকে চাল-ডাল নিয়ে রান্নাঘরে দিয়ে ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক। সেখানে তাঁকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় শিক্ষার্থী চিৎকার করলে অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর মুখ চেপে ধরেন। পাশাপাশি ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য তাঁকে নিষেধ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বাড়িতে ফিরে ওই শিক্ষার্থী তার বাবা-মাকে ঘটনাটি জানায়। অসুস্থ বোধ করায় তাকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা মো. আক্তারুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার আশাশুনি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান জানান, মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরানদহা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।