সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন- ০৯ মে- প্রকাশিত: রাত ২১:৩৫ |
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন পাকিস্তানের অর্থনীতি ধ্বংসের কিনার থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল।
২০২৩ সালে পাকিস্তানের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) প্রায় স্থবির ছিল—অতিরিক্ত আমদানি খরচ, কমতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতির চাপে। ২০২৪ সালে দেশটি ২.৫% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৫ সালে এই হার ৩%-এ পৌঁছাতে পারে।
কিন্তু যুদ্ধের ধোঁয়াটে আবহে ইসলামাবাদের জন্য সেই আশার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ADB পূর্বে আশা করেছিল যে, “সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি, স্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রা বাজার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিচ্ছবি” প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট বা ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগে নতুন গতি আনবে। এখন সেই হিসেব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানি রুপি মূল্যহ্রাস পাচ্ছে, শেয়ার বাজারে তীব্র পতন দেখা দিয়েছে, এবং যেকোনও বিনিয়োগকারীর কাছে যুদ্ধ বা সংঘাতের হুমকি সবচেয়ে বড় নিরুৎসাহক। নতুন প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের সময় এমন অনিশ্চয়তা গুরুতর সমস্যা তৈরি করে।
অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছে রেটিং সংস্থা মুডিজ (Moody’s)। তারা জানিয়েছে, “যুদ্ধ পরিস্থিতি পাকিস্তানের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের চেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।”
এই প্রেক্ষাপটে আজই বৈঠকে বসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF), পাকিস্তানকে তাদের ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৫.২ বিলিয়ন পাউন্ড) বেলআউট প্যাকেজের পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণ করতে।
পাকিস্তান এমন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনা শুধু রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নয়, বরং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
মূল প্রতিবেদন: নিখিল ইনামদার, বিবিসি, লন্ডন থেকে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au