সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের শান্তি সংলাপ কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেস্তে গেছে। কয়েক দফা বৈঠকের পরও দুই দেশের মধ্যে কোনো লিখিত সমঝোতা হয়নি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, আলোচনাটি সম্পূর্ণ অচলাবস্থায় পৌঁছেছে এবং এর আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
গত বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা তৃতীয় দফা সংলাপে বসেছিলেন। বৈঠক শেষে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব হয়নি। এতে সংলাপের পুরো প্রক্রিয়াই গুরুত্ব হারায়।
এই সংলাপ আয়োজনের পেছনে কূটনৈতিক ভূমিকা রেখেছিল কাতার ও তুরস্ক। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খাজা আসিফ বলেন, “আমরা সন্ত্রাস দমনে আফগানিস্তানের সহযোগিতা চেয়েছিলাম, এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো আমাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। এমনকি আফগান প্রতিনিধিরাও মৌখিকভাবে একমত হয়েছিলেন। কিন্তু যখনই লিখিত চুক্তির প্রসঙ্গ এলো, তারা পিছিয়ে গেলেন। কোনো আন্তর্জাতিক আলোচনাই চুক্তি ছাড়া এগোয় না।”
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। ২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখল করার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। প্রধান বিরোধের কেন্দ্র তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালিয়ে হাজারো মানুষের প্রাণ নিয়েছে। পাকিস্তান এই গোষ্ঠীটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও, আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর টিটিপি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, কাবুল সরকার টিটিপিকে নিয়মিতভাবে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে, যদিও আফগানিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় ৯ অক্টোবর, যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কাবুলে বিমান হামলা চালিয়ে টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদসহ কয়েকজন নেতাকে হত্যা করে। এর দুই দিন পর আফগান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিতে পাল্টা হামলা চালায়, যা চার দিন ধরে চলে। এই সংঘাতে পাকিস্তানের ২৩ এবং আফগানিস্তানের দুই শতাধিক সেনা নিহত হন বলে জানিয়েছে পাক সেনাবাহিনীর তথ্য দপ্তর আইএসপিআর।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫ অক্টোবর দুই দেশ ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর দোহায় প্রথম দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়, যা পরে স্থানান্তরিত হয়ে ২৫ অক্টোবর থেকে ইস্তাম্বুলে চলে আসে।
তবে শেষ পর্যন্ত এই সংলাপ কোনো ফল বয়ে আনেনি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা কেবল একটি বিষয় চেয়েছিলাম, আফগান মাটি যেন পাকিস্তানে হামলার জন্য ব্যবহার না হয়। কিন্তু কাবুল সেই নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এখন যদি ভবিষ্যতে আফগানিস্তান থেকে আমাদের ওপর হামলা হয়, আমরা তার উপযুক্ত জবাব দেব।”
তিনি আরও জানান, মধ্যস্থতাকারী কাতার ও তুরস্কের কর্মকর্তারাও পরিস্থিতিতে হতাশ হয়েছেন, কারণ কাবুলের অনমনীয় অবস্থানেই পুরো প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে।
সূত্র: জিও নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au