রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ১৪ নভেম্বর- যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে ওঠা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে চলা গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শত শত মানুষের মৃত্যুর নেপথ্য পরিকল্পনাকারী তিনি ছিলেন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এই অভিযোগকে “মিথ্যা” হিসেবে দাবি করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ত্যাগের পর বিবিসিকে দেওয়া এটি তার প্রথম সাক্ষাৎকার। এতে তিনি বলেছেন, অনুপস্থিত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে যে বিচার চলছে, তা একটি “প্রহসন” এবং এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়ন্ত্রিত “ক্যাঙ্গারু কোর্ট” পরিচালনা করছে।
অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রসিকিউটররা তার জন্য মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে। হাসিনা দাবি করেছেন, এই বিচার এমনিতেই একটি “পূর্বনির্ধারিত দোষী সাব্যস্ত করার রায়” দিতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার রায় ঘোষণার আগে রাজধানী ঢাকার ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীরা জানিয়েছে, গত বছরের ছাত্রনেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাসিনার সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা হিসেবে পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী সহিংসতা চালায়, যার ফলে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ভারত থেকে ফিরতে অস্বীকার করেছেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি দেশ ছাড়ার কয়েক সপ্তাহ আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিবিসিকে দেওয়া ইমেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ “সুস্পষ্টভাবে” অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, অপ্রয়োজনে বহু প্রাণহানি হয়েছে তা আমি অস্বীকার করি না, কিন্তু আমি কখনো নিরস্ত্র বেসামরিকদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি।”
এর আগে এ বছর তার একটি ফোনকলের ফাঁস হওয়া অডিও যাচাই করেছে বিবিসি আই, যা ইঙ্গিত দেয় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি “প্রাণঘাতী অস্ত্র” ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। আদালতে সেই অডিও বাজানো হয়।
হাসিনা জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হয়েছেন আরও দুইজনের সঙ্গে। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। প্রথমজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে, অন্যজন জুলাইয়ে দোষ স্বীকার করেছেন, তবে সাজা এখনো ঘোষণা হয়নি।
বিচার প্রসঙ্গে হাসিনা বিবিসিকে বলেছেন, তিনি নিজেকে রক্ষা করার সুযোগ পাননি এবং নিজের আইনজীবী নিয়োগও করতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে “মুছে ফেলতে” চেষ্টার অংশ হিসেবে এই বিচার পরিচালনা করছে। তার আইনজীবীরা সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার ও বিচারপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত গুরুতর উদ্বেগের কারণে তারা জাতিসংঘের কাছে জরুরি আবেদন করেছেন।
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ইতোমধ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে হাসিনা আরও জানিয়েছেন, তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে কিছু গোপন কারাগার উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে বছরের পর বছর ধরে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে আটক করা হয়েছিল। তার সরকারবিরোধী সমালোচক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের অপহরণ ও এসব স্থানে আটকে রেখে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে। সে বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনি এসব বিষয় সম্পর্কে “জানতেন না” এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই।
হাসিনা বলেছেন, “আমার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করছি, তবে যদি কর্মকর্তাদের দ্বারা কোনো নিপীড়নের প্রমাণ থাকে, তা নিরপেক্ষ ও রাজনীতিমুক্তভাবে তদন্ত করা হোক।”
এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা চলমান, যা তারা অস্বীকার করেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au