বিশ্ব

ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গাজাবাসী, ঠাণ্ডায় শিশুর মৃত্যু

  • 12:32 am - December 12, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২১১ বার
১১ ডিসেম্বর গাজা উপত্যকার নুসাইরাত শহরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা একটি গাড়িতে করে প্লাবিত রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। ছবি : রয়টার্স

মেলবোর্ন, ১২ ডিসেম্বর- প্রবল বৃষ্টিতে গাজা উপত্যকার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দুই বছরের যুদ্ধের কারণে যেসব পরিবার তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিল, বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে তাদের অনেকগুলিই পানিতে তলিয়ে যায়। ঠাণ্ডাজনিত কারণে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

চিকিৎসকেরা বলেন, রাহাফ আবু জাজারের পরিবারের তাঁবুতে পানি ঢুকে পড়ার পর শিশুটি ঠাণ্ডায় মারা যায়। কান্নায় ভেঙে পড়া রাহাফের মা হেজার আবু জাজার জানান, রাতে মেয়েকে খাইয়ে ঘুম পাড়ানোর পর ভোরে জেগে দেখেন বৃষ্টির পানি ও ঠাণ্ডা বাতাসে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, তার মেয়ের কোনো রোগ ছিল না, হঠাৎ ঠাণ্ডায় প্রাণ হারিয়েছে।

ঝড়ের সাথে লড়াইয়ে অসহায় স্থানীয় পৌরসভা ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানির ঘাটতি এবং ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের কারণে তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না। ডজনের বেশি বুলডোজারসহ পানি নিষ্কাশনের যন্ত্রপাতি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তাদের দাবি।

সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস জানায়, উপত্যকার বেশিরভাগ তাঁবু শিবিরই পানিতে ডুবে গেছে এবং বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকে আড়াই হাজারের বেশি জরুরি কল পেয়েছে তারা। শিবিরের সরু পথগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের জিনিসপত্র ভেসে যেতে দেখা গেছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া ৭৬১টি কেন্দ্র প্লাবনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসে হাজারো মানুষ আবার স্থান পরিবর্তন করেছেন। কর্মকর্তারা জানান, এখনো অন্তত তিন লাখ নতুন তাঁবুর প্রয়োজন, কারণ বিদ্যমান বেশির ভাগ আশ্রয় জীর্ণ এবং পাতলা প্লাস্টিক বা কাপড় দিয়ে তৈরি।

মানুষজন বোমায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে লোহার রড সংগ্রহ করে তাঁবু টিকিয়ে রাখছেন বা অল্প দামে বিক্রি করছেন।

অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হামাস–নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী সাহায্য প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। সাহায্য সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, প্লাবিত রাস্তা ও ভেজা তাঁবু বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ঠাণ্ডা, অতিরিক্ত ভিড় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রোগ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাদের মতে, বাধাহীন মানবিক সহায়তা পেলে এই দুর্ভোগ কমানো যেত।

গাজা সিটির জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বৃষ্টি ঝড়ে তিনটি বাড়ি ধসে পড়েছে।

সুত্রঃ  রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

আসন্ন বড় খাদ্য সংকটের জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ, জ্বালানি ও সার সরবরাহে চাপ,…

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের…

ছেলেকে হত্যার ৫০ দিনের মাথায় বাবাকেও গুলি করে হত্যা

খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলে হত্যার ৫০ দিনের মাথায় তার বাবা আক্তার ঢালীকেও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে মাগরিবের…

ইতিহাসের মহানায়ক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

কেউ কেউ ইতিহাসে স্থান করে নেন; আবার কেউ এমনভাবে একটি জাতির জীবনে আবির্ভূত হন, যাঁকে বাদ দিয়ে সেই জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টিই লেখা যায়…

অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি নিয়ে দ্বন্দ্ব, ভাঙল ফারুকী-তিশার সংসার?

শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সংসারে ভাঙনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় তিশার নামে থাকা একটি বাড়ি বিক্রি…

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও তারেকের ভারত সফর কি একই সূত্রে গাঁথা?

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবি এবং বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নতুন করে জটিল হয়ে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au