রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ২৪ ডিসেম্বর- বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ডিবি পুলিশের পরিচয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করে লোটো শোরুমের পরিচালক পিন্টু আকন্দকে (৩৭) অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাইক্রোবাসের চালক দুপচাঁচিয়ার উত্তর সাজাপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার মো. শাকিব (২৫)। পুলিশ জানায়, শাকিব মাইক্রোবাস ভাড়া করতে সহযোগিতা করেন। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আসামি ধরার কথা বলে মাইক্রোবাসটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান ও দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে দুপচাঁচিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার খন্দকার মার্কেটে অবস্থিত লোটো শোরুম থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে চার ব্যক্তি পিন্টু আকন্দকে জোর করে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পুরো ঘটনাটি শোরুমের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অপহরণের প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের কুমারপুর এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে পিন্টু আকন্দের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাঁর নাক ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।
নিহত পিন্টু আকন্দ নওগাঁর রানীনগর উপজেলার লোহাগাড়া গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দুপচাঁচিয়ায় তাঁর শ্যালক মো. বাবুর মালিকানাধীন লোটো শোরুমের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের শ্যালক বাবু বলেন, পিন্টুর সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। কী কারণে তাকে অপহরণ ও হত্যা করা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মাইক্রোবাসের মালিক মশিউর রহমান পান্না বলেন, সোমবার বিকেলে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ৫-৬ জন ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে মাইক্রোবাসটি ভাড়া নেয়। তারা রাজশাহীতে আসামি ধরতে যাওয়ার কথা বলেছিল। পরে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে রিমান্ডে নেওয়া হবে। অপহরণ ও হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজসহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au