সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন, ৬ জানুয়ারি- সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী “জুলাই যোদ্ধাদের” জন্য দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অধ্যাদেশ জারির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
আজ সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৈঠকে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা—তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ২৫ ডিসেম্বর এবং হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তার—কেন্দ্র করে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি বিষয়টি আলোচিত হয়। মাহদী গ্রেপ্তারের একদিন পর এবং সুরভী ১১ দিন পর জামিন পান।
সভায় দায়মুক্তি প্রক্রিয়া এবং আইনি সুরক্ষার ধরন নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে যে কয়েকটি দায়মুক্তি ও অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। সিদ্ধান্তে আসে যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া দায়মুক্তির মতোভাবে জুলাই যোদ্ধাদেরও আইনি সুরক্ষা দেওয়া যেতে পারে।
এর আগে ৪ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তিন দফা দাবি তুলে, যার মধ্যে ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র, শ্রমিক ও জনতাকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করার দাবি। এই দাবি বৈঠকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রথম আলোকে বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছে। তাদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা উচিত। আমরা এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছি।” তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশে বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়মুক্তি প্রবর্তনের অভিজ্ঞতাও খসড়া অধ্যাদেশ তৈরিতে বিবেচনায় নেওয়া হবে। এছাড়া দেশের সংবিধান অনুযায়ী এবং পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে আইন মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মামলা ও গ্রেপ্তার না করার ঘোষণা দিয়েছিল। একইভাবে ৫ আগস্ট জারি করা জুলাই ঘোষণাপত্রে বলা হয়, “বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।”
বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডের মুখোমুখি হয়, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সভার অন্যান্য আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতি, অপারেশন ডেভিল হান্টের দ্বিতীয় পর্যায়, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au