রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ১৪ জানুয়ারি- দেশে বিরাজমান চরম নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। বুধবার ১৪ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এই রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং র্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে অন্তত ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে রিটে উল্লেখ করা হয়, সরকার অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখনো এই লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার, প্রার্থী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ উসমান হাদীর সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রমাণিত হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন সহিংস ও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠতে পারে।
রিট আবেদনে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে তিনি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রিটে বলেন, সরকার কিছু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। এই অবস্থায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে জীবনের অধিকার, সরাসরি লঙ্ঘন করবে।
এ কারণে রিট আবেদনে লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং সার্বিকভাবে নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au