বাংলাদেশ

সশস্ত্র গ্রুপ, বিকল সিসিটিভি : নির্বাচনে রোহিঙ্গা ক্যাম্প বড় ঝুঁকি!

  • 4:36 am - January 24, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৪১ বার
নির্বাচনী প্রচারণায় রোহিঙ্গা ব্যবহারের ঝুঁকি, রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি চলছে, ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৪ জানুয়ারি- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক গোপন প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্যাম্পে সশস্ত্র গ্রুপের সক্রিয় উপস্থিতি, অবৈধ অস্ত্রের মজুত এবং কার্যত অকার্যকর সিসিটিভি ব্যবস্থার কারণে নির্বাচনকালীন নাশকতা, ভুয়া ভোট প্রদান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সম্প্রতি পাওয়া নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং রোহিঙ্গাদের যেকোনো ধরনের নির্বাচনী তৎপরতা থেকে দূরে রাখতে বেশ কিছু কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে দেরি হলে নির্বাচন ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

গোপন ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। নির্বাচনকালীন সময়ে স্বার্থান্বেষী মহল এসব গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। পাশাপাশি আশঙ্কা করা হচ্ছে, অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কিছু রোহিঙ্গা ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন অথবা রাজনৈতিক মিছিল, জনসভা ও প্রচারণায় জড়িয়ে পড়তে পারেন।

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এবং নির্বাচনকালীন নাশকতার ঝুঁকি, সবমিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে কক্সবাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা , ছবিঃ সংগৃহীত

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ‘সিল’ করার প্রস্তাব দিলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে এটি কার্যকরভাবে করা কঠিন। ক্যাম্পগুলোর বিশাল আয়তন, কার্যকর সীমানা প্রাচীরের অভাব এবং অধিকাংশ সিসিটিভি ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় পুরো এলাকা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলে মত দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

নির্বাচন সামনে রেখে ৬ ও ৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত একাধিক মতবিনিময় সভায়ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেখানে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, ক্যাম্পের কিছু বাসিন্দা অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন এবং নির্বাচনের সময় ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত হওয়ার ঝুঁকির কথাও আলোচনায় উঠে আসে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিল করা নিয়ে বিতর্ক। সীমানা প্রাচীর ও সিসিক্যামেরার অভাবে বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে কক্সবাজার, ছবিঃ সংগৃহীত

গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশের মধ্যে রয়েছে— কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি যেন রোহিঙ্গাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না করে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচন ও ভোট-পরবর্তী অন্তত এক সপ্তাহ রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় নাম ওঠানো রোহিঙ্গাদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে ভোটগ্রহণের সাত দিন আগে থেকেই কক্সবাজার শহর ও ক্যাম্প এলাকায় আটক কার্যক্রম জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। ক্যাম্প ইনচার্জদের নির্বাচনকালীন সময়ে অন্য কোনো দায়িত্বে না পাঠিয়ে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পে অবস্থান নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিষয়টি কেবল ভোটের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ মো. সাখাওয়াত হোসেনের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব গোষ্ঠীকে ব্যবহার করা হলে তা শুধু নির্বাচনী পরিবেশ নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, ক্যাম্পের সীমানা প্রাচীর ও নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতা দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। তাঁর মতে, নির্বাচনের আগে জরুরি ভিত্তিতে সিসিটিভি মেরামত, প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ, টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো এবং গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার না করলে ঝুঁকি এড়ানো কঠিন হবে।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটের আগে ও পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা জানিয়েছে। তবে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাস্তব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নিরাপত্তা পরিকল্পনা ছাড়া এই ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব নয়।

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au