সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নারী নেতৃত্ব, ইসলামি আইন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা কাঠামো নিয়ে নিজের দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সেখানেই দলটির দীর্ঘ বছরের ‘নারীবিরোধী অবস্থান’ উঠে এসেছে। তিনি সরাসরিই বলে দিয়েছেন, ‘নারীদের কাজ সংসার সামলানো আর বাচ্চাকাচ্চা পালন করা। এর বাইরে তাদের কোনো কাজ নেই।’
ওই সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে ইসলামি আইন জারি হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত জনগণ ও সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো নারী থাকার সুযোগ নেই।
সাক্ষাৎকারে আল জাজিরার প্রশ্নে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে মানুষ যা ভালো মনে করবে, তাই হবে। ওটা মানুষের ব্যাপার।”
তবে দলের অন্যান্য নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, দলীয় প্রধানের বক্তব্যই জামায়াতের চূড়ান্ত অবস্থান হিসেবে বিবেচ্য, অন্যদের মন্তব্য দলীয় সিদ্ধান্ত নয়।
নারী নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নে জামায়াত আমীর স্বীকার করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দলটি একজন নারী প্রার্থীও মনোনয়ন দেয়নি। তার ভাষায়, “একজনও না। কিন্তু আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ করিয়েছে এবং তারা জয়ীও হয়েছেন। তবে জাতীয় নির্বাচনে নারী মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যাখ্যায় বলেন, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গেও জড়িত এবং একদিনে পরিবর্তন সম্ভব নয়।
আল জাজিরার পক্ষ থেকে বারবার প্রশ্ন করা হলেও ডা. শফিকুর রহমান একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনো নারী জামায়াতের আমীর হতে পারবেন না। এর ব্যাখ্যায় তিনি ধর্মীয় ও শারীরিক পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন।
তার মতে, আল্লাহ পুরুষ ও নারীকে ভিন্নভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং মাতৃত্বের দায়িত্ব পালনের কারণে নারীদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
আল জাজিরার উপস্থাপক পাল্টা যুক্তিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে টানা কয়েক দশক নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন।
জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এতে নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে না, তবে জামায়াতের দৃষ্টিতে অধিকাংশ দেশই নারীদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে উপযুক্ত মনে করে না। তিনি দাবি করেন, শারীরিক ও বাস্তবতার কারণেই এটি সম্ভব নয় বলে জামায়াত মনে করে।
সাক্ষাৎকারে বিএনপির সঙ্গে অতীত জোট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে। জামায়াত আমীর বলেন, খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়া বিএনপির নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেটিকে অসম্মানজনক মনে করেন না।
আল জাজিরাকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমীরের বক্তব্য দলটির নারী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংস্কার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au