রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ২০ ফেব্রুয়ারি- বছর ঘুরে আবারও ফিরে আসছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মূল বেদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, আলপনা অঙ্কন, রং ও নান্দনিক সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিল্পী ও কর্মীরা।
শুক্রবার রাত থেকেই ফুল হাতে মানুষের ঢল নামবে শহীদ মিনারে। মাতৃভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে প্রস্তুত দেশ।
শহীদ মিনার ঘুরে দেখা যায়, মূল বেদির আলপনার কাজ জোরেশোরে চলছে। কেন্দ্রীয় চত্বরের বেশির ভাগ কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে আশপাশের সড়কে আলপনা আঁকায় এখনো ব্যস্ত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। সাদা, লাল ও কালোর সমন্বয়ে ফুটে উঠছে ভাষা আন্দোলনের প্রতীকী চিত্র ও বর্ণমালা।
মিনার এলাকায় ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল কাঠামো ও বেদি ধুয়ে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অংশে দেওয়া হয়েছে সাদা রঙের প্রলেপ। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা জানান, রঙের কাজ শেষ হলে মিনারের পেছনে স্থাপন করা হবে প্রতীকী লাল সূর্য, যা ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাসের স্মারক হিসেবে বিবেচিত।
শুধু মূল মিনার নয়, আশপাশের দেয়ালজুড়েও চলছে বর্ণমালা অঙ্কন ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক গ্রাফিতি তৈরির কাজ। শিল্পীরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে একুশের চেতনা পৌঁছে দিতে নান্দনিক উপস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের কাজও চলছে সমান্তরালে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ভোররাত থেকে শুরু করে সারাদিন শ্রদ্ধা নিবেদনে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা থাকবে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হয় অমর একুশে। দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।
ভাষার অধিকার রক্ষায় আত্মোৎসর্গের সেই ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দিতে আবারও প্রস্তুত রাজধানী। রক্তঝরা একুশের প্রভাতে ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হবে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, জাগ্রত হবে ভাষা ও আত্মপরিচয়ের অঙ্গীকার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au