ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। রাত পেরিয়ে ভোর হওয়ার আগেই শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাধারণ মানুষের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে ফুল হাতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তারা।
শনিবার সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে মানুষের দীর্ঘ লাইন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। নিরবচ্ছিন্নভাবে একে একে সবাই ফুল দিয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন।
অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারও হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারও হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন। শ্রদ্ধা জানাতে আসে ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। অনেক অভিভাবককে শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে দেখা যায়। ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর শহীদ মিনারে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই ইতিহাস নতুন করে অনুভব করা যায়। ধানমন্ডি থেকে বাবা-মামার সঙ্গে আসা নয় বছর বয়সী সিনথিয়া তামান্না বলে, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। যারা মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন তাদের ফুল দিতে এসেছে সে। রাজবাড়ী থেকে আসা মতিউর বলেন, দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। জনগণ আর সেই পরিস্থিতিতে ফিরতে চায় না।
শ্রদ্ধা নিবেদনকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। পাশাপাশি ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
এর আগে প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এরপর সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান-এর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au