বাংলাদেশ

সাবেক উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠদের দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়, তদন্ত শুরু

  • 9:54 pm - March 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৬৩ বার
সাবেক উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠদের অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৬ মার্চ- অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক কয়েকজন উপদেষ্টা এবং তাদের সুপারিশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই এসব অভিযোগ লিখিত আকারে জমা পড়তে শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার ও অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার ব্যাংক হিসাবের তথ্যও তলব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কিছু উপদেষ্টা ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম করেছেন এবং তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রভাব খাটিয়েছেন।

এর আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলেন সাবেক সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। গত বছরের আগস্ট মাসে তিনি দাবি করেছিলেন, অন্তত আটজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকার ওই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থায় জমা পড়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়গুলো আবার আলোচনায় এসেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সূত্র জানায়, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই কোনো না কোনো ধরনের অভিযোগ জমা পড়েছে। দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে অর্থ পাচার ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট চারজন সাবেক উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ সহকারীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে। তারা হলেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফাওজুল কবির খান, আসিফ মাহমুদ, আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী। দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সংস্থাটি এসব হিসাব থেকে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন বা সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না তা যাচাই করছে।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও যুব-ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। তার একান্ত সহকারী মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর উপদেষ্টা থাকাকালীনই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ওই সহকারীর বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।

এ ছাড়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার গাড়িচালকের পরিবারের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর নথি অনুযায়ী, ওই গাড়িচালকের ভাই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকার আয় দেখিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তার প্রকৃত আয়ের সঙ্গে এই ঘোষিত আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি নিয়েও অনুসন্ধান চলছে।

সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়েছেন এবং নিজের এলাকায় নতুন কিছু প্রকল্প গ্রহণে ভূমিকা রেখেছেন। উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

আসিফ মাহমুদের সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এজাজের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে তহবিল তছরুফসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সিটি করপোরেশন নিজেও তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আরেক ছাত্র উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে তার সাবেক একান্ত সচিব আতিক মোর্শেদ প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্ত্রীর মাধ্যমে মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এ নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এ প্রক্রিয়ায় শত কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া আরেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধেও টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো যদি প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সেগুলো অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তার মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, জমা পড়া অভিযোগগুলোর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au