বাংলাদেশ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর প্রতিবেদন

অতীতের নির্যাতন ও গুমের অভিযোগে সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার

  • 9:09 pm - April 03, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৩১ বার
ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- বাংলাদেশে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সামরিক সমর্থিত সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে।

জানা গেছে, ওই সময় দেশে জরুরি অবস্থা জারি থাকাকালে শত শত মানুষকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অনেকের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিলেও, সংশ্লিষ্ট মহল জোর দিচ্ছে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর।

সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনায় জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ। ২০২৪ সালে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সেই সরকারের পতনের পর এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।

গত ২৩ মার্চ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবপাচার এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতারণাসহ ১১টি অভিযোগে মামলা হয়েছে। এরপর ২৬ মার্চ গ্রেপ্তার হন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মামুন খালেদ, যিনি একসময় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ৩০ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় আরেক সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ আফজাল নাসেরকে, যিনি ২০২৪ সালের বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত।

গ্রেপ্তার হওয়া তিন কর্মকর্তাই সামরিক সমর্থিত সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও ওই সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয় লাভ করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা সীমিত করা, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কার, নজরদারি ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা জরুরি।

একই সঙ্গে অতীতের অপরাধ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল নিশ্চিত করা সম্ভব যে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ভবিষ্যতে আর ঘটবে না।

এই শাখার আরও খবর

উৎসবের মঞ্চে ঐতিহ্য ও মানবিকতার মেলবন্ধন, ‘মহাশক্তি সম্মান’-এ স্বীকৃতি ২৫ দুর্গাপুজোর

দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক অবদান ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিতে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ২৫টি দুর্গাপুজো কমিটিকে ‘মহাশক্তি সম্মান’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ‘উই আর দ্য কমন…

পারিবারিক বন্ধুর হামলায় পা হারালেন অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপি, সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্সকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীর পরিচয় ঘিরে। ৬৫ বছর বয়সী এই এমপির ওপর…

ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

ইরানে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ…

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল পাকিস্তান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের কাছে…

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: বিদায়ের বেদনা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য ও সম্প্রীতির মহামিলন

শরতের নির্মল আকাশ, সাদা কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের মধুর বাদ্য আর চারদিকে উৎসবের আমেজ—এসবের মধ্য দিয়েই বাঙালির হৃদয়ে আবির্ভূত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।…

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au