রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ৬ এপ্রিল- গত শুক্রবার ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে জীবিত উদ্ধারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ওই সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই কর্মকর্তা এখন নিরাপদে রয়েছেন, যদিও পরে আরেকটি বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ওই কর্মকর্তা গুরুতর আহত ছিলেন।
ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানটিতে দুইজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তারা দুজনই বিপদের মুখে বিমান থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে বেরিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে একজনকে আগেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, আরেকজন নিখোঁজ থাকায় শুরু হয় নতুন করে উদ্ধার অভিযান।
যেভাবে পরিচালিত হয় উদ্ধার অভিযান
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পরপরই নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ বা যুদ্ধকালীন উদ্ধার অভিযান।
এই ধরনের অভিযানে সাধারণত হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান একসঙ্গে কাজ করে। শত্রু এলাকার ভেতরে খুব নিচু দিয়ে উড়ে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। জানা গেছে, এই অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং বিশেষ বাহিনীর বহু সদস্যকে এতে নিয়োজিত করে।

উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। ছবিঃ বিবিসি
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ওই ক্রু সদস্য শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। তিনি প্রায় ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় একা ছিলেন এবং কয়েক হাজার ফুট উচ্চতার একটি দুর্গম পাহাড়ে অবস্থান নেন। সেখানে টিকে থাকার জন্য সামরিক প্রশিক্ষণে শেখানো কৌশলগুলো ব্যবহার করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমান থেকে ইজেক্ট করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা শরীরে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। তবুও মাটিতে নামার পর ওই কর্মকর্তা নিজের অবস্থান গোপন করেন, প্যারাসুট সরিয়ে ফেলেন এবং নিরাপদ জায়গা খুঁজে নেন। একই সঙ্গে একটি বিশেষ সংকেত ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
সিআইএ’র কৌশল
উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (Central Intelligence Agency)। সংস্থাটি নিখোঁজ কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্ত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং সেই তথ্য সরাসরি পেন্টাগনের কাছে পৌঁছে দেয়।
এ ছাড়া ইরানের ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য একটি কৌশলগত প্রচারণাও চালানো হয়। বিভিন্ন সূত্রে ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে নিখোঁজ ক্রুকে ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ইরানি বাহিনীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং প্রকৃত উদ্ধার অভিযান সহজ হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অভিযান চলাকালে আকাশপথে একাধিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার অংশ নেয়। পুরো অভিযানটি কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযানের সময় কিছু জটিলতাও দেখা দেয়। একটি পরিবহন বিমান দুর্গম এলাকায় অবতরণের সময় কাদায় আটকে যায়। পরে সেটি শত্রুপক্ষের হাতে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এরপর উদ্ধারকারী সদস্যদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত বিমান পাঠানো হয়।
কোথায় ভূপাতিত হয়েছিল যুদ্ধবিমান
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথম জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে কোহগিলুয়ে ও বয়ের-আহমদ এবং খুজেস্তান প্রদেশের নাম উল্লেখ করা হয়।
ইরান দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমেই বিমানটি ভূপাতিত হয়ে থাকতে পারে।
এফ-১৫ই মডেলের যুদ্ধবিমানটি একাধারে আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার সক্ষমতা রাখে। এতে দুইজন ক্রু সদস্য থাকেন। পাইলটের পাশাপাশি অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লক্ষ্য নির্ধারণ ও হামলার নিয়ন্ত্রণ করেন।
ইরানে এই ধরনের যুদ্ধবিমান মূলত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজে প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au