Uncategorized

ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব, যে কারণে ভেস্তে যেতে পারে শান্তি আলোচনা

  • 12:24 pm - April 10, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৫৭ বার
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বহুল আলোচিত সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় পুরো শান্তিপ্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন বাস্তবতায় যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বহুল আলোচিত সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে, যার দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।

আজ শুক্রবার ইসলামাবাদে সংলাপের প্রাথমিক ধাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং আগামীকাল শনিবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যদিও এ সংলাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের প্রতিনিধিদলে কারা থাকছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সম্ভাব্য কিছু নাম প্রকাশ করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই তা নিশ্চিত করেনি।

এর মধ্যেই বিশ্লেষকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এই সংলাপ শুরু হওয়ার আগেই তা ভেস্তে যেতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যে ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই সংলাপ শুরু হওয়ার কথা, তার অন্তত তিনটি শর্ত ইতোমধ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রমও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। এতে করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর অবস্থান তুলে ধরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আলোচনায় সমঝোতা না হলে আরও বড় পরিসরে সামরিক হামলা চালানো হবে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে নিজেদের অধিকারের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না। দুই পক্ষের এই অবস্থান সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করছে।

এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, লেবাননের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তার এই বক্তব্যের পরপরই দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যুদ্ধ বন্ধের কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় ওয়াশিংটন ইসলামাবাদকে আশ্বাস দিয়েছিল যে তারা ইসরায়েলকে হামলা বন্ধে রাজি করাবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। তার মতে, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েলের এই আগ্রাসী ভূমিকা।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য সংলাপকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত লকডাউন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের আগমনের আগে একটি ৩০ সদস্যের নিরাপত্তা দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। একইভাবে ইরানের প্রতিনিধিরাও সেখানে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। তিনি বলেছেন, লেবাননে হামলা বন্ধ হওয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত সংকটময়।

সম্ভাব্য প্রতিনিধিদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচির অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংলাপ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও জেডি ভ্যান্স কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় একটি বাস্তবসম্মত চুক্তিতে পৌঁছাতে এবং সে লক্ষ্যে তারা সৎভাবে আলোচনা করবে। একই ধরনের মনোভাব ইরানও দেখালে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইরান ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করবে। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে এমন হামলা চালানো হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছেন, আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত হতে হবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ইসফাহানে মজুত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে মার্কিন বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পরিস্থিতি এতটা সহজ নয় যে যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় আকারে যুদ্ধ শুরু করতে পারবে। কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। এ কারণে ট্রাম্প চাইলেও হুট করে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন না বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। দেশটিতে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা করছে। বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ যুদ্ধবিরতিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে নেতানিয়াহু লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা। ফাইল ছবি

এরই মধ্যে লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। দেশটির বিভিন্ন স্থানে আক্রমণের পাশাপাশি হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য লেবাননে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এ হামলাকে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচল শুরু হলেও তা আগের তুলনায় অনেক কম। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে শতাধিক জাহাজ চলাচল করত, এখন সেখানে খুব অল্পসংখ্যক জাহাজ পার হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি, বীমা জটিলতা এবং অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কতটা সম্ভব হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আসন্ন এই সংলাপের ফলাফলের ওপর।

এই শাখার আরও খবর

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

সিডনি ও পার্থে বিএইচএসএএ’র শারদীয় পূজা পরিক্রমা সম্পন্ন

শতদল তালুকদার, সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশি হিন্দু শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএইচএসএএ’র (BHSAA) শারদীয় দুর্গাপূজা পরিক্রমা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য…

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ঝরল ১০ প্রাণ, আহত আরও ২০

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে ভোরের আলো ফোটার আগেই সড়কে ঝরল ১০ প্রাণ। যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।…

‘আমি ভয় পাই না’, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা আবারও বললেন শেখ হাসিনা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আবারও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে পারেন বলে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au