নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ৮ মে- অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত তরুণ ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাশিফ। গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অডলি বাঁধের পানিতে পড়ে গেলে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কাশিফের বয়স হয়েছিল মাত্র ২০ বছর।
স্থানীয় সময় বুধবার গভীর রাতে সিডনির রয়্যাল ন্যাশনাল পার্ক এলাকার অডলি বাঁধে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, একটি অডি গাড়ি দ্রুতগতিতে চলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাঁধের পানিতে পড়ে যায়। গাড়ির চালক সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ভেতরে আটকা পড়ে যান মোহাম্মদ কাশিফ।
খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ডুবুরিরা গাড়ি থেকে কাশিফকে উদ্ধার করলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মোহাম্মদ কাশিফ দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনির কাসুলা এলাকার বাসিন্দা নাজিম আহমেদের বড় ছেলে। তিনি ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন। একই সঙ্গে পরিবারের সহায়তায় কাজও করতেন। বাবা-মা ও দুই ছোট বোনের সংসারে তিনি ছিলেন অন্যতম নির্ভরতার জায়গা।
ক্রিকেট অঙ্গনেও পরিচিত মুখ ছিলেন এই তরুণ। ফেয়ারফিল্ড-লিভারপুল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে ২০২২ ও ২০২৩ মৌসুমে খেলেছেন তিনি। স্থানীয় ক্রিকেট মহলে প্রাণবন্ত ও বন্ধুসুলভ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন কাশিফ।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে সিডনি মাউন্ট প্রিচার্ড সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টস ক্রিকেট ক্লাব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লাবটি লিখেছে, “তোমার ব্যক্তিত্ব, রসবোধ ও বন্ধুত্ব আমরা গভীরভাবে মিস করব। খুব দ্রুতই চলে গেলে। শান্তিতে ঘুমাও, প্রিয়।”
কাশিফের বন্ধু আদিল আব্বাস বলেন, “কাশিফ এমন একজন মানুষ ছিল, যাকে দেখলেই সবার মন ভালো হয়ে যেত। সবসময় হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত থাকত। তার মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না।”
এ ঘটনায় অডি গাড়ির ২০ বছর বয়সী চালককে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে রেসিংয়ে অংশ নেওয়া মার্সিডিজ গাড়ির ১৮ বছর বয়সী চালকের বিরুদ্ধেও স্থগিত লাইসেন্সে গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে কাশিফের পরিবারের সহায়তায় একটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের ভাষায়, কাশিফ শুধু পরিবারের সদস্য ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো পরিবারের অন্যতম স্তম্ভ। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au