বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার সংকট কেন কাটছে না?
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই—বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধের সমষ্টি হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা কঠিন। দীর্ঘদিনের…
মেলবোর্ন, ১৩ মে: মেলবোর্নের ১৯ বছর বয়সী তরুণী আইলা বেলের মরদেহ একটি ফ্রিজের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে তার পরিবার। তারা ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি-জেনারেল সোনিয়া কিলকেনির হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
মঙ্গলবার ভিক্টোরিয়া সুপ্রিম কোর্টে প্রসিকিউটররা জানান, আইলা বেলের মৃত্যুর ঘটনায় ৫৫ বছর বয়সী মারাত গ্যানিয়েভের বিরুদ্ধে আনা ম্যানস্লটার বা অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে।
এই সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইলার মা জাস্টিন স্পোকস বলেন,
“মনে হচ্ছে যেন আমার মেয়ের সঙ্গে আমাকেও আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না, কিন্তু এতটা নিচে নেমে যাবে ভাবিনি।”
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ড্যান্ডেনংয়ের একটি বর্জ্য ডিপোতে আবর্জনাবাহী ট্রাকে আইলা বেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ছিল, মারাত গ্যানিয়েভ তার অ্যাপার্টমেন্টে আইলাকে হত্যা করার পর বন্ধু ৫৯ বছর বয়সী ইয়াল ইয়াফের সহায়তায় মরদেহ ফ্রিজে ভরে সরিয়ে ফেলেন।
ঘটনার প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে ব্রান্সউইকের নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিলেন আইলা। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো মেলবোর্নে ব্যাপক উদ্বেগ ও জনমত তৈরি হয়েছিল।

আইলা বেলের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার ছয় সপ্তাহ আগে তাকে সর্বশেষ জীবিত অবস্থায় তার ব্রান্সউইকের বাড়ি থেকে বের হতে দেখা গিয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত
প্রথমে গ্যানিয়েভের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও পরে তা ম্যানস্লটার অভিযোগে নামিয়ে আনা হয়। চলতি মাসেই বিচার শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে মঙ্গলবার আদালতে ক্রাউন প্রসিকিউটর জেরেমি ম্যাকউইলিয়ামস জানান, সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নতুনভাবে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হবে।
একই ধরনের অভিযোগ ইয়াল ইয়াফের বিরুদ্ধেও প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তিনি আদালত থেকে মুক্তভাবে বেরিয়ে যান।
আইলার মা জাস্টিন স্পোকস বলেন, অভিযোগ কেন কমানো হলো এবং পরে কেন পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
তিনি বলেন,
“কমিউনিটিরও মতামত জানানোর সুযোগ থাকা উচিত। কোনো রিভিউ প্রক্রিয়া না থাকাটা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে যায় না।”
আইলার দাদা ডেভিড স্পোকসও বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন,
“সারা জীবন বিশ্বাস করেছি আমাদের বিচারব্যবস্থা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। এখন আর তা মনে হয় না। আমাদের বিচারব্যবস্থা ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হচ্ছে এবং সংস্কার প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা অ্যাটর্নি-জেনারেল সোনিয়া কিলকেনির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তিনি যেন হস্তক্ষেপ করেন এবং সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান।”
কমিটাল শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়েছিল, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি আইলার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে বা তার শরীরের আঘাতগুলো মৃত্যুর আগে না পরে হয়েছে।
অফিস অব পাবলিক প্রসিকিউশনের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে গ্যানিয়েভের বিরুদ্ধে ম্যানস্লটার অভিযোগে দণ্ড নিশ্চিত হওয়ার যৌক্তিক সম্ভাবনা না থাকায় অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আদালতের বাইরে আইলার মা তার মেয়েকে স্মরণ করে বলেন,
“আমি আইলাকে সহমর্মিতা, সততা ও সাহসিকতার শিক্ষা দিয়ে বড় করেছি। কিন্তু আজ তার অনুপস্থিতির বাস্তবতা আমাকে ভেঙে দিচ্ছে।”
আইলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আইসি বলেন,
“আমার বলার মতো কোনো ভাষা নেই। এই ঘটনা মেয়েদের, তরুণীদের এবং সব নারীদের জন্য কী বার্তা দেয়? আমরা কি তাহলে শুধু ফেলে দেওয়ার মতো মানুষ? আমি ভীষণ মর্মাহত।”
-news.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au