রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ১৭ মে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তাইওয়ান ইস্যু। ট্রাম্প চীন সফর শেষে তাইওয়ানের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তাইপে স্পষ্ট জানিয়েছে, “তাইওয়ান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র” এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার তাদের জনগণের হাতেই থাকবে।
শনিবার এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা বর্তমান ‘ক্রস-স্ট্রেইট স্ট্যাটাস কো’ বা বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
এই প্রতিক্রিয়া আসে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারের পর। চীন সফর শেষে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি কাউকে স্বাধীন হতে উৎসাহিত করতে চাই না।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না এবং তাইওয়ান প্রশ্নে পরিস্থিতি শান্ত রাখা প্রয়োজন।
ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা এমন পরিস্থিতি চাই না যেখানে কেউ বলবে, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সমর্থন দিচ্ছে, তাই আমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।”
তাইওয়ান ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি। ১৯৪০-এর দশকের চীনা গৃহযুদ্ধের পর থেকে দ্বীপটি নিজস্ব সরকার ব্যবস্থায় পরিচালিত হলেও চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্ন ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুই “চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়”।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতায় “খুবই দৃঢ় অবস্থানে” রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বেইজিংকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি বলেও দাবি করেন।
এদিকে তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ইতোমধ্যে এ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি এখনো অনুমোদন দিইনি। পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।”
তবে তাইপের দাবি, ওয়াশিংটনের মৌলিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ান চায়না’ নীতি ও আঞ্চলিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “অঞ্চলে প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকির উৎস হলো চীনের সামরিক চাপ ও আগ্রাসী অবস্থান।” তাইওয়ানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে যেমন চীনের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au