বিশ্ব

নতুন করে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

  • 3:58 am - May 29, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২৪ বার
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এর পতাকা। প্রতিকী ছবি

মেলবোর্ন, ২৯ মে- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না দেওয়ায় চুক্তিটি কার্যকর হয়নি। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে জাহাজ চলাচল সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিস্তার নতুন করে আঞ্চলিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এ পরিকল্পনায় এখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

এ বিষয়ে রয়টার্সকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হলেও হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্প প্রশাসন অতীতেও একাধিকবার যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার কথা বললেও পরে ইরান সেসব দাবি অস্বীকার বা খাটো করে দেখিয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কঠোর অবস্থানের রাজনীতিকদের চাপের মুখে রয়েছেন। তারা চাইছেন, এমন কোনো চুক্তি না হোক যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার নিশ্চয়তা থাকবে না।

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হয়েছে। রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েল প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে একটি বাফার জোন ঘোষণা করে এবং ৫৭টি শহর ও গ্রাম খালি করার নির্দেশ দেয়। পরে আরও শতাধিক লেবানিজ শহর ও গ্রামে নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়।

ফলে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, যা লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ, সরাসরি সামরিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এসব এলাকা থেকে অধিকাংশ মানুষ উত্তরাঞ্চল কিংবা উপকূলীয় টাইর ও সিডন শহরে আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে বেড়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই এপ্রিল মাসে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৩ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিলে মূল মূল্যস্ফীতিও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এর ফলে সার, অ্যালুমিনিয়াম এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা জ্বালানির দাম এক মাসেই ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতির এই সূচককে তাদের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতির কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময় বর্তমান পর্যায়ে রাখা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি ওমানকে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে জড়িত কোনো পক্ষকে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক খসড়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। তবে ট্রাম্প এ প্রতিবেদনকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন। অন্যদিকে ওমান জানিয়েছে, তারা শুধু নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে, যৌথ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নয়।

এদিকে কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের হামলা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

কাতারও একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সামান্য অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, লেবানন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ঝরল ১০ প্রাণ, আহত আরও ২০

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে ভোরের আলো ফোটার আগেই সড়কে ঝরল ১০ প্রাণ। যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।…

‘আমি ভয় পাই না’, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা আবারও বললেন শেখ হাসিনা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আবারও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে পারেন বলে…

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানত না সরকার

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিস্তারিত জানতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশের দূতাবাস বা…

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণনির্ভর!

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নিত্যদিনের খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না আয়। সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাই ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশের বহু পরিবারকে।…

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার সংকট কেন কাটছে না?

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই—বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধের সমষ্টি হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা কঠিন। দীর্ঘদিনের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au